করোনার ত্রাণে এক টাকা ২ আইনজীবীর | Bahumat

করোনার ত্রাণে এক টাকা ২ আইনজীবীর

 

 

 চেন্নাই, ১৯ এপ্রিল: কথায় বলে ‘চকচক করলেই সোনা হয় না’! বহুল প্রচলিত এই প্রবচনের যথার্থ অর্থ বুঝিয়ে দিলেন মাদ্রাজ হাইকোর্টের দুই নামজাদা আইনজীবী।
আইনি ব্যবসায় মোটামুটি সফল ওই দুই আইনজীবী। হাইকোর্ট পাড়ায় নামডাকও মন্দ নয়। অথচ, কোভিডের ত্রাণ-ভাঁ‌঩ড়ে তাঁদের দানের বহর দেখে চোখ কপালে উঠেছে সংগ্রহকারীদের। এক টাকা করে সাকুল্যে দু’টাকা দান। এই বিরল ‘উদারতা’য় আইনজীবী মহলে রীতিমতো নিন্দার পাত্র হয়ে উঠেছেন দুই আইনজীবী! তাঁদের এহেন ‘দান’ আসলে হাড়কিপটেমির অনন্য নজির, নাকি ত্রাণ সংগ্রহের সাধু উদ্যোগকে উপহাস করা, তা নিয়ে তুমুল চর্চা চলছে নেট-বিশ্বে। তাঁদের এখন খুঁজে বের করে ‘প্রশংসা সূচক শংসাপত্র’ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বার কাউন্সিল অব তামিলনাড়ু অ্যান্ড পুদুচেরি। ‘শংসাপত্র’ পাওয়ার তালিকায় আরও দু’জন আইনজীবীও রয়েছেন। ত্রাণ তহবিলে যাঁদের দান মাত্র ১০ টাকা করে!
বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান এস প্রভাকরণ কটাক্ষের সুরে বলেছেন, ‘‘আমরা এখন ওই চার আইনজীবীর পূর্ণাঙ্গ তথ্য যাচাই করছি। এমন কঠিন সময়ে তাঁদের এমন আচরণ আমাদের ‘মুগ্ধ’ করেছে। তাঁদের হাতে ‘প্রশংসাসূচক শংসাপত্র’ তুলে দিতে একটি সংবর্ধনা সভার আয়োজন করব ভেবেছি।’’ কড়া ভাষায় চার আইনজীবীর আচরণের নিন্দাও করেছেন মাদ্রাজ হাইকোর্টের আইনজীবী সংগঠনের প্রাক্তন সভাপতি। লকডাউনের মোকাবিলায় তিনিই প্রথম আইনজীবীদের ত্রাণ সংগ্রহে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। এ ব্যাপারে মাদ্রাজ হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশনও দাখিল করেছিলেন। মূলত তাঁর উদ্যোগে ত্রাণ সংগ্রহ অভিযানে নামে বার কাউন্সিল। ত্রাণ তহবিলে আড়াই লক্ষ টাকা দান করে অভিযানের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন মাদ্রাজ হাইকোর্টের বিচারপতি এস এম সুব্রহ্মণ্যম। কোনও কোনও আইনজীবী, বিচারপতি পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সাহায্য করেছেন। সব মিলিয়ে দাতার সংখ্যা হয়েছে ২১৬। সকলেই অনলাইন ট্রান্সফার পরিষেবার মাধ্যমে কাউন্সিলের অ্যাকাউন্টে দান পাঠিয়েছেন।
দাতাদের সেই তালিকায় চোখ বোলাতে গিয়েই তাজ্জব বনে যান বার কাউন্সিলের কর্মকর্তারা। কাউন্সিলের অন্যতম সদস্য আর সি পল কঙ্গরাজের কথায়, ‘ত্রাণ সংগ্রহ একটি স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ড। সেখানে কেউ দান করতে পারেন। আবার নাও পারেন। তা বলে মাত্র এক টাকা দান! ভাবতেই পারছি না! ওই দুই আইনজীবীর এই দানকে উপহাস ছাড়া কি-ই বা বলা যায়!’ দাতাদের তালিকা থেকে প্রাপ্ত তথ্য বলছে, ‘ওই দুই আইনজীবী ছাড়া আরও দু’জন আইনজীবী মাত্র ১০ টাকা করে দান করেছেন। একজন দান করেছেন ১০১ টাকা। অপর দু’জনের দানের পরিমাণ ৪০০ টাকা। ২০০ টাকা করে দিয়েছেন তাঁরা। বাকি সকলেই ৫০০ টাকা কিংবা তার ঊর্ধ্বে দান করেছেন। এখন পর্যন্ত কাউন্সিলের দানপাত্রে জমা পড়েছে ৬০ লক্ষেরও বেশি টাকা।
অঙ্কটা নিঃসন্দেহে খুবই ভালো। প্রশংসনীয় এই প্রয়াসও। কিন্তু এই সব কিছু ছাপিয়ে গিয়েছে দুই কৌঁসুলির ‘মহানুভবতা’। নেট দুনিয়া এখন একটাই কথা বলছে… রোগে, পেটের জ্বালায় ধুঁকতে থাকা দেশবাসীদের নিয়ে তামাশা না করলেই পারতেন।
Loading Facebook Comments ...
Top