নীল তিমির গ্রাস থেকে বাঁচতে মনোবিদদের পরামর্শ বাবা-মায়েরা সতর্ক হোন, সন্তানকে মোবাইল নয়, আরও সময় দিন | Bahumat

নীল তিমির গ্রাস থেকে বাঁচতে মনোবিদদের পরামর্শ বাবা-মায়েরা সতর্ক হোন, সন্তানকে মোবাইল নয়, আরও সময় দিন

news pic

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘নীল’ অনেকের কাছেই উদার আকাশের প্রতীক। আবার ‘নীল’ অনেকের কাছে মৃত্যুরও প্রতীক। যে যেভাবে জীবনকে দেখে। বর্তমানে এই ‘নীল’ শব্দটির সঙ্গে ‘তিমি’ জুড়ে তৈরি হওয়া খেলা ‘নীল তিমি’ পৃথিবীজুড়ে ঘুম কেড়েছে অল্পবয়সি ছেলেমেয়েদের বাবা-মায়েদের। কারণ একটাই। রাশিয়ার ‘ডেথ গ্রুপ’-এর মধ্যে সীমিত থাকা এই খেলা একের পর এক অল্পবয়সি ছেলেমেয়েদের প্রাণ নিচ্ছে। আর্জেন্টিনা থেকে ব্রাজিল, আমেরিকা থেকে ভারত— নতুন নতুন করে বিভিন্ন দেশের ছেলেমেয়েরা এই মারাত্মক খেলার প্রলোভনে জড়িয়ে পড়ছে। এ রাজ্যে ইতিমধ্যেই কলকাতা ও পশ্চিম মেদিনীপুরে দুটি ছেলের প্রাণ কেড়েছে এই ভয়ংকর খেলা। বারাসত থেকে থেকে বাঁকুড়া, পুরুলিয়া থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনা— একের পর এক জেলা থেকে বিভিন্ন কিশোর-কিশোরী বা যুবক-যুবতীদের এই মারণ খেলার কবলে পড়ার খবর মিলেছে।
প্রশ্ন হল, এ থেকে নিস্তারের রাস্তা কী? নামকরা মনোবিদদের অধিকাংশের মত, অল্পবয়সি ছেলেমেয়েদের এই গেম-এর কবলে পড়ার অন্যতম কারণ আসলে তাঁদের বাবা-মায়েরাই। অল্পবয়স থেকে মোবাইল হাতে তুলে দেওয়া, নিজের কর্মব্যস্ততার জন্য সময় দিতে না পারা, ছেলেমেয়েরা ইন্টারনেটে কোন কোন সাইট দেখছে, কাদের সঙ্গে চ্যাট করছে বা কী ধরনের ওয়েবসাইট দেখছে, সে সম্পর্কে খোঁজ না রাখা। সবচেয়ে বড় কথা, সময় না দিতে দিতে নিজের ছেলেমেয়েদের মধ্যেই যে চরম অবসাদ তৈরি হচ্ছে, তারই খেয়াল না রাখা এর প্রধান কারণ। বিশেষ করে কর্মরত বাবা-মায়েদের বিশেষ সতর্ক থাকতে অনুরোধ জানিয়ে মনোবিদদের অধিকাংশ জানিয়েছেন, অবিলম্বে অল্পবয়সিদের হাতে মোবাইল বা কম্পিউটার তুলে দেওয়া বন্ধ করতে হবে। আর স্কুল-কলেজের প্রয়োজনে তা দিতে হলেও, ছেলেমেয়েরা এসব নিয়ে কী করছে, তার খেয়াল খবর রাখতে হবেই।
মনোবিদরা জানাচ্ছেন, এই নজরদারির পাশাপাশি ভার্চুয়াল জগতের কল্পনার দুনিয়া থেকে ছেলেমেয়েদের বাস্তবের পৃথিবীতে নামিয়ে আনাও খুব জরুরি। দরকার স্নেহ, ভালোবাসা, সময় দেওয়া, ওদের ভালোলাগা, খারাপ লাগার খবর রাখা, সহানুভূতি এবং প্রয়োজনে ভর্ৎসনা দুটিই। ওদের আউটডোর গেম যেমন ক্রিকেট, ফুটবলের প্রতি উৎসাহ বাড়ানোও খুব দরকার। সরকারের কাছে মনোবিদদের অনুরোধ, যেভাবেই হোক, স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীদের মোবাইল ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনতেই হবে। সেটা সচেতনতার মাধ্যমে হোক বা নির্দেশে। এরই সঙ্গে চুপচাপ, অবসাদগ্রস্ত ছাত্রছাত্রীদের কাউন্সেলিং করানোর বিষয়েও জোর দিয়েছেন তাঁরা।
রবিবার বিশিষ্ট মনস্তাত্ত্বিক ডাঃ জয়রঞ্জন রাম বলেন, আমার কাছে ক’দিন আগেই ১৪ এবং ১৭ বছরের দুটি ছেলে এসেছিল। একজন হাতে ‘নীল তিমি’র ছবিও এঁকেছে। ওদের চিকিৎসা চলছে। বয়ঃসন্ধির কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে অবসাদ ও আত্মহত্যার প্রবণতা যে কী পরিমাণ বাড়ছে, আসলে তারই প্রমাণ এসব ঘটনা। বিদেশের বিভিন্ন সমীক্ষা বলছে, বয়ঃসন্ধির ছেলেমেয়েদের প্রায় ছয় থেকে আট শতাংশই অবসাদে ভুগছে। তিনি জানান, বেশ কিছুদিন ধরে পড়াশোনায় মন নেই, কিছুই ভালো লাগছে না, থম মেরে রয়েছে এ ধরনের বাচ্চাদের বা কিশোর-কিশোরীদের প্রতি বিশেষ নজর দিন।
রাজ্যের সরকারি মনোরোগ চিকিৎসার উৎকর্ষকেন্দ্র ইনস্টিটিউট অব সাইকিয়াট্রি’র অধিকর্তা ডাঃ প্রদীপ সাহা বলেন, আমাদের সমীক্ষা বলছে, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ সারা দেশের নিরিখে ০.২ শতাংশ বেশি সংখ্যায় অবসাদে ভোগেন। আগে আমেরিকার এফডিএ’র মতো সংস্থার কড়া নিয়ম ছিল, ১০ বছরের আগে বাচ্চাদের অবসাদের চিকিৎসা করানোর সময় কোনওভাবেই ওষুধ দেওয়া চলবে না। এখন সেই নিয়ম ওরাই তুলে দিয়েছে। বাচ্চাদের অবসাদ এতটাই বেড়েছে যে, ছ’বছর বয়স থেকেই অবসাদগ্রস্ত বাচ্চাদের অনেককে ওষুধ দিতে বাধ্য হচ্ছি।
বিশিষ্ট মনোবিদ ডাঃ দেবাঞ্জন পান বলেন, ভেবে দেখুন, হয়ত এমনটাই হওয়ার ছিল। আমরা কি আমাদের বাচ্চাদের মনের খোঁজ রাখছি? সময় দিচ্ছি? অল্পবয়সে হাতে মোবাইল আর আবদারের জিনিস তুলে দিয়ে সময় না দেওয়ার অভাব পুষিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছি। আর ওরা ডুবে রয়েছে মোবাইল গেম, কম্পিউটারের ভার্চুয়াল জগতে। ওদের সময় দিন, আউটডোর খেলায় উৎসাহ বাড়ান। কথায় কথায় হাতে মোবাইল তুলে দেবেন না।
Read more at http://www.bartamanpatrika.com/detailNews.php?cID=14&nID=72449&P=1#KVozMCsfWsjRoJ5q.99নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘নীল’ অনেকের কাছেই উদার আকাশের প্রতীক। আবার ‘নীল’ অনেকের কাছে মৃত্যুরও প্রতীক। যে যেভাবে জীবনকে দেখে। বর্তমানে এই ‘নীল’ শব্দটির সঙ্গে ‘তিমি’ জুড়ে তৈরি হওয়া খেলা ‘নীল তিমি’ পৃথিবীজুড়ে ঘুম কেড়েছে অল্পবয়সি ছেলেমেয়েদের বাবা-মায়েদের। কারণ একটাই। রাশিয়ার ‘ডেথ গ্রুপ’-এর মধ্যে সীমিত থাকা এই খেলা একের পর এক অল্পবয়সি ছেলেমেয়েদের প্রাণ নিচ্ছে। আর্জেন্টিনা থেকে ব্রাজিল, আমেরিকা থেকে ভারত— নতুন নতুন করে বিভিন্ন দেশের ছেলেমেয়েরা এই মারাত্মক খেলার প্রলোভনে জড়িয়ে পড়ছে। এ রাজ্যে ইতিমধ্যেই কলকাতা ও পশ্চিম মেদিনীপুরে দুটি ছেলের প্রাণ কেড়েছে এই ভয়ংকর খেলা। বারাসত থেকে থেকে বাঁকুড়া, পুরুলিয়া থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনা— একের পর এক জেলা থেকে বিভিন্ন কিশোর-কিশোরী বা যুবক-যুবতীদের এই মারণ খেলার কবলে পড়ার খবর মিলেছে।
প্রশ্ন হল, এ থেকে নিস্তারের রাস্তা কী? নামকরা মনোবিদদের অধিকাংশের মত, অল্পবয়সি ছেলেমেয়েদের এই গেম-এর কবলে পড়ার অন্যতম কারণ আসলে তাঁদের বাবা-মায়েরাই। অল্পবয়স থেকে মোবাইল হাতে তুলে দেওয়া, নিজের কর্মব্যস্ততার জন্য সময় দিতে না পারা, ছেলেমেয়েরা ইন্টারনেটে কোন কোন সাইট দেখছে, কাদের সঙ্গে চ্যাট করছে বা কী ধরনের ওয়েবসাইট দেখছে, সে সম্পর্কে খোঁজ না রাখা। সবচেয়ে বড় কথা, সময় না দিতে দিতে নিজের ছেলেমেয়েদের মধ্যেই যে চরম অবসাদ তৈরি হচ্ছে, তারই খেয়াল না রাখা এর প্রধান কারণ। বিশেষ করে কর্মরত বাবা-মায়েদের বিশেষ সতর্ক থাকতে অনুরোধ জানিয়ে মনোবিদদের অধিকাংশ জানিয়েছেন, অবিলম্বে অল্পবয়সিদের হাতে মোবাইল বা কম্পিউটার তুলে দেওয়া বন্ধ করতে হবে। আর স্কুল-কলেজের প্রয়োজনে তা দিতে হলেও, ছেলেমেয়েরা এসব নিয়ে কী করছে, তার খেয়াল খবর রাখতে হবেই।
মনোবিদরা জানাচ্ছেন, এই নজরদারির পাশাপাশি ভার্চুয়াল জগতের কল্পনার দুনিয়া থেকে ছেলেমেয়েদের বাস্তবের পৃথিবীতে নামিয়ে আনাও খুব জরুরি। দরকার স্নেহ, ভালোবাসা, সময় দেওয়া, ওদের ভালোলাগা, খারাপ লাগার খবর রাখা, সহানুভূতি এবং প্রয়োজনে ভর্ৎসনা দুটিই। ওদের আউটডোর গেম যেমন ক্রিকেট, ফুটবলের প্রতি উৎসাহ বাড়ানোও খুব দরকার। সরকারের কাছে মনোবিদদের অনুরোধ, যেভাবেই হোক, স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীদের মোবাইল ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনতেই হবে। সেটা সচেতনতার মাধ্যমে হোক বা নির্দেশে। এরই সঙ্গে চুপচাপ, অবসাদগ্রস্ত ছাত্রছাত্রীদের কাউন্সেলিং করানোর বিষয়েও জোর দিয়েছেন তাঁরা।
রবিবার বিশিষ্ট মনস্তাত্ত্বিক ডাঃ জয়রঞ্জন রাম বলেন, আমার কাছে ক’দিন আগেই ১৪ এবং ১৭ বছরের দুটি ছেলে এসেছিল। একজন হাতে ‘নীল তিমি’র ছবিও এঁকেছে। ওদের চিকিৎসা চলছে। বয়ঃসন্ধির কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে অবসাদ ও আত্মহত্যার প্রবণতা যে কী পরিমাণ বাড়ছে, আসলে তারই প্রমাণ এসব ঘটনা। বিদেশের বিভিন্ন সমীক্ষা বলছে, বয়ঃসন্ধির ছেলেমেয়েদের প্রায় ছয় থেকে আট শতাংশই অবসাদে ভুগছে। তিনি জানান, বেশ কিছুদিন ধরে পড়াশোনায় মন নেই, কিছুই ভালো লাগছে না, থম মেরে রয়েছে এ ধরনের বাচ্চাদের বা কিশোর-কিশোরীদের প্রতি বিশেষ নজর দিন।
রাজ্যের সরকারি মনোরোগ চিকিৎসার উৎকর্ষকেন্দ্র ইনস্টিটিউট অব সাইকিয়াট্রি’র অধিকর্তা ডাঃ প্রদীপ সাহা বলেন, আমাদের সমীক্ষা বলছে, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ সারা দেশের নিরিখে ০.২ শতাংশ বেশি সংখ্যায় অবসাদে ভোগেন। আগে আমেরিকার এফডিএ’র মতো সংস্থার কড়া নিয়ম ছিল, ১০ বছরের আগে বাচ্চাদের অবসাদের চিকিৎসা করানোর সময় কোনওভাবেই ওষুধ দেওয়া চলবে না। এখন সেই নিয়ম ওরাই তুলে দিয়েছে। বাচ্চাদের অবসাদ এতটাই বেড়েছে যে, ছ’বছর বয়স থেকেই অবসাদগ্রস্ত বাচ্চাদের অনেককে ওষুধ দিতে বাধ্য হচ্ছি।
বিশিষ্ট মনোবিদ ডাঃ দেবাঞ্জন পান বলেন, ভেবে দেখুন, হয়ত এমনটাই হওয়ার ছিল। আমরা কি আমাদের বাচ্চাদের মনের খোঁজ রাখছি? সময় দিচ্ছি? অল্পবয়সে হাতে মোবাইল আর আবদারের জিনিস তুলে দিয়ে সময় না দেওয়ার অভাব পুষিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছি। আর ওরা ডুবে রয়েছে মোবাইল গেম, কম্পিউটারের ভার্চুয়াল জগতে। ওদের সময় দিন, আউটডোর খেলায় উৎসাহ বাড়ান। কথায় কথায় হাতে মোবাইল তুলে দেবেন না।
Read more at http://www.bartamanpatrika.com/detailNews.php?cID=14&nID=72449&P=1#KVozMCsfWsjRoJ5q.99নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘নীল’ অনেকের কাছেই উদার আকাশের প্রতীক। আবার ‘নীল’ অনেকের কাছে মৃত্যুরও প্রতীক। যে যেভাবে জীবনকে দেখে। বর্তমানে এই ‘নীল’ শব্দটির সঙ্গে ‘তিমি’ জুড়ে তৈরি হওয়া খেলা ‘নীল তিমি’ পৃথিবীজুড়ে ঘুম কেড়েছে অল্পবয়সি ছেলেমেয়েদের বাবা-মায়েদের। কারণ একটাই। রাশিয়ার ‘ডেথ গ্রুপ’-এর মধ্যে সীমিত থাকা এই খেলা একের পর এক অল্পবয়সি ছেলেমেয়েদের প্রাণ নিচ্ছে। আর্জেন্টিনা থেকে ব্রাজিল, আমেরিকা থেকে ভারত— নতুন নতুন করে বিভিন্ন দেশের ছেলেমেয়েরা এই মারাত্মক খেলার প্রলোভনে জড়িয়ে পড়ছে। এ রাজ্যে ইতিমধ্যেই কলকাতা ও পশ্চিম মেদিনীপুরে দুটি ছেলের প্রাণ কেড়েছে এই ভয়ংকর খেলা। বারাসত থেকে থেকে বাঁকুড়া, পুরুলিয়া থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনা— একের পর এক জেলা থেকে বিভিন্ন কিশোর-কিশোরী বা যুবক-যুবতীদের এই মারণ খেলার কবলে পড়ার খবর মিলেছে।
প্রশ্ন হল, এ থেকে নিস্তারের রাস্তা কী? নামকরা মনোবিদদের অধিকাংশের মত, অল্পবয়সি ছেলেমেয়েদের এই গেম-এর কবলে পড়ার অন্যতম কারণ আসলে তাঁদের বাবা-মায়েরাই। অল্পবয়স থেকে মোবাইল হাতে তুলে দেওয়া, নিজের কর্মব্যস্ততার জন্য সময় দিতে না পারা, ছেলেমেয়েরা ইন্টারনেটে কোন কোন সাইট দেখছে, কাদের সঙ্গে চ্যাট করছে বা কী ধরনের ওয়েবসাইট দেখছে, সে সম্পর্কে খোঁজ না রাখা। সবচেয়ে বড় কথা, সময় না দিতে দিতে নিজের ছেলেমেয়েদের মধ্যেই যে চরম অবসাদ তৈরি হচ্ছে, তারই খেয়াল না রাখা এর প্রধান কারণ। বিশেষ করে কর্মরত বাবা-মায়েদের বিশেষ সতর্ক থাকতে অনুরোধ জানিয়ে মনোবিদদের অধিকাংশ জানিয়েছেন, অবিলম্বে অল্পবয়সিদের হাতে মোবাইল বা কম্পিউটার তুলে দেওয়া বন্ধ করতে হবে। আর স্কুল-কলেজের প্রয়োজনে তা দিতে হলেও, ছেলেমেয়েরা এসব নিয়ে কী করছে, তার খেয়াল খবর রাখতে হবেই।
মনোবিদরা জানাচ্ছেন, এই নজরদারির পাশাপাশি ভার্চুয়াল জগতের কল্পনার দুনিয়া থেকে ছেলেমেয়েদের বাস্তবের পৃথিবীতে নামিয়ে আনাও খুব জরুরি। দরকার স্নেহ, ভালোবাসা, সময় দেওয়া, ওদের ভালোলাগা, খারাপ লাগার খবর রাখা, সহানুভূতি এবং প্রয়োজনে ভর্ৎসনা দুটিই। ওদের আউটডোর গেম যেমন ক্রিকেট, ফুটবলের প্রতি উৎসাহ বাড়ানোও খুব দরকার। সরকারের কাছে মনোবিদদের অনুরোধ, যেভাবেই হোক, স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীদের মোবাইল ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনতেই হবে। সেটা সচেতনতার মাধ্যমে হোক বা নির্দেশে। এরই সঙ্গে চুপচাপ, অবসাদগ্রস্ত ছাত্রছাত্রীদের কাউন্সেলিং করানোর বিষয়েও জোর দিয়েছেন তাঁরা।
রবিবার বিশিষ্ট মনস্তাত্ত্বিক ডাঃ জয়রঞ্জন রাম বলেন, আমার কাছে ক’দিন আগেই ১৪ এবং ১৭ বছরের দুটি ছেলে এসেছিল। একজন হাতে ‘নীল তিমি’র ছবিও এঁকেছে। ওদের চিকিৎসা চলছে। বয়ঃসন্ধির কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে অবসাদ ও আত্মহত্যার প্রবণতা যে কী পরিমাণ বাড়ছে, আসলে তারই প্রমাণ এসব ঘটনা। বিদেশের বিভিন্ন সমীক্ষা বলছে, বয়ঃসন্ধির ছেলেমেয়েদের প্রায় ছয় থেকে আট শতাংশই অবসাদে ভুগছে। তিনি জানান, বেশ কিছুদিন ধরে পড়াশোনায় মন নেই, কিছুই ভালো লাগছে না, থম মেরে রয়েছে এ ধরনের বাচ্চাদের বা কিশোর-কিশোরীদের প্রতি বিশেষ নজর দিন।
রাজ্যের সরকারি মনোরোগ চিকিৎসার উৎকর্ষকেন্দ্র ইনস্টিটিউট অব সাইকিয়াট্রি’র অধিকর্তা ডাঃ প্রদীপ সাহা বলেন, আমাদের সমীক্ষা বলছে, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ সারা দেশের নিরিখে ০.২ শতাংশ বেশি সংখ্যায় অবসাদে ভোগেন। আগে আমেরিকার এফডিএ’র মতো সংস্থার কড়া নিয়ম ছিল, ১০ বছরের আগে বাচ্চাদের অবসাদের চিকিৎসা করানোর সময় কোনওভাবেই ওষুধ দেওয়া চলবে না। এখন সেই নিয়ম ওরাই তুলে দিয়েছে। বাচ্চাদের অবসাদ এতটাই বেড়েছে যে, ছ’বছর বয়স থেকেই অবসাদগ্রস্ত বাচ্চাদের অনেককে ওষুধ দিতে বাধ্য হচ্ছি।
বিশিষ্ট মনোবিদ ডাঃ দেবাঞ্জন পান বলেন, ভেবে দেখুন, হয়ত এমনটাই হওয়ার ছিল। আমরা কি আমাদের বাচ্চাদের মনের খোঁজ রাখছি? সময় দিচ্ছি? অল্পবয়সে হাতে মোবাইল আর আবদারের জিনিস তুলে দিয়ে সময় না দেওয়ার অভাব পুষিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছি। আর ওরা ডুবে রয়েছে মোবাইল গেম, কম্পিউটারের ভার্চুয়াল জগতে। ওদের সময় দিন, আউটডোর খেলায় উৎসাহ বাড়ান। কথায় কথায় হাতে মোবাইল তুলে দেবেন না।
Read more at http://www.bartamanpatrika.com/detailNews.php?cID=14&nID=72449&P=1#KVozMCsfWsjRoJ5q.99

Loading Facebook Comments ...
Top