পেঁয়াজের নানা উপকারিতা | Bahumat

পেঁয়াজের নানা উপকারিতা

পেঁয়াজ

কান্না দুই ধরনের হয়। এক হচ্ছে, সুখের কান্না এবং দুই হচ্ছে, দুঃখের কান্না। তবে এর বাইরেও কিন্তু আরেক ধরনের কান্না আছে।হ্যাঁ। ঠিকই ধরেছেন। পেঁয়াজ কাটতে গিয়ে কান্না! এই কান্না আসলে পেঁয়াজের ঝাঁঝের কারণে চোখে পানি আসা। তাই মজা করে বলা হয়ে থাকে, পেঁয়াজ কাটার অভিজ্ঞতা যাদের আছে তাদের সবারই কান্নাকাটি করা লাগে।এ প্রতিবেদন যেহেতু পেঁয়াজ নিয়ে, তাই স্বাভাবিকভাবেই পেঁয়াজের নানা উপকারিতা পেতে গিয়ে কান্নাকাটি আপনাকে করা লাগতেই পারে!তবে এ ক্ষেত্রে রান্নার জন্য পেঁয়াজ কাটার প্রয়োজন পড়বে না। বরঞ্চ রান্না ছাড়াও আপনি আরো চমকপ্রদ কী কী সুবিধা পেতে পারেন, সে জন্য পেঁয়াজের প্রয়োজন পড়বে। জেনে নিন পেঁয়াজ দিয়ে আরো কী কী করা যায়।

আগুনে পুড়ে গেলে : দুর্ঘটনাবশত বা অসাবধানতায় হাত বা শরীরের অন্য কোনো অংশ আগুনে দগ্ধ হলে পেঁয়াজের সম্মুখটা কেটে নিয়ে, দগ্ধ অংশে পেয়াঁজ ঘষুন। এতে শুধু যে ব্যথা কমবে তাই নয়, পাশাপাশি দাগ প্রতিরোধ এবং রোগ সংক্রমণের ঝুঁকিও কমবে।

ডেটক্স :পেঁয়াজ ব্যাকটেরিয়া শোষণ করতে পারে। তাই যেকোনো স্থানে পেঁয়াজ স্লাইস করে কেটে ছড়িয়ে রাখলে তা রোগ সংক্রমণ এবং হাঁচি-কাশির মতো বায়ুবাহিত রোধ প্রতিরোধে সাহায্য করে।

পোকামাকড় কামড় দিলে : শরীরে পোকামাকড়ের কামড়ের আক্রান্ত স্থানে পেঁয়াজ ঘষুন। কারণ পোকামাকড়ের বিষ থেকে সৃষ্ট ব্যথা ও ফোলা কমাতে বেশ কার্যকরী পেঁয়াজ।

কানে ব্যথা বা কান কটকট করলে : শুধু শরীরের পোড়া স্থানে এবং পোকামাকড়ের কামড়ের স্থানেই নয়, বরঞ্চ কর্ণশূল নিরাময়েও পেঁয়াজ দারুণ কাজ করে। কান কটকট বা কানের ব্যথার ক্ষেত্রে, পেঁয়াজের একটা ছোট টুকরো কানের মধ্যে রাখুন, এতে আপনার কানের মধ্যে থাকা মোম গলে যাবে এবং ব্যথা কমাবে।

জ্বরের ক্ষেত্রে : শরীরে যদি জ্বর জ্বর ভাব অনুভব করেন, তাহলে ঘুমানোর সময় পায়ে মোজা পরে মোজার মধ্যে পেঁয়াজের স্লাইস করে কাটা টুকরো রেখে দিন। বিস্ময়করভাবে এতে জ্বর কমে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।গলাব্যথার

ক্ষেত্রে : পেঁয়াজের খোসা গরম পানিতে সেদ্ধ করে, সেই পানি খেলে গলাব্যথা কমতে পারে। যখনই আপনি গলাব্যথায় ভুগছেন, তখনই এই পেঁয়াজ চা খেতে পারেন।শলা, কাঁটা বা অন্যকিছু বিদ্ধ হলে…অসাবধানতায় হাতের আঙুলে বা পায়ের পাতায় কোনো শলা বা কাঁটা অন্যকিছু বিদ্ধ হলে, তা অনেক সময় বের করাটা খুব যন্ত্রণাদায়ক হয়ে ওঠে। সে ক্ষেত্রে অর্ধেক কাটা পেঁয়াজ, ব্যান্ডেজ দিয়ে পেঁচিয়ে ওই স্থানে ঘণ্টাখানেক রেখে দিলে, বিদ্ধ জিনিসটি বের করাটা সহজ হয়।

ত্বকে কালো দাগ দূর করতে : হলুদের সঙ্গে পেঁয়াজের রস মিশিয়ে ত্বকে লাগালে, তা ত্বকের কালো দাগ দূর করে এবং ত্বকের স্বাভাবিক রং বজায় রাখতে সাহায্য করে।

অনিয়মিত মাসিক হলে : পেঁয়াজ ব্যথানাশক হিসেবে কাজ করে। এমনকি মাসিকের বাধাও দূর করে। মাসিক চক্র শুরু হওয়ার আগে কিছুদিন কাঁচা পেঁয়াজ খেয়ে দেখুন, আপনি একমত হবেন।

আক্কেল দাঁত ব্যথার ক্ষেত্রে : আক্কেল দাঁত ব্যথা কমাতে পেঁয়াজের টুকরা খেয়ে দেখতে পারেন বা ব্যথার স্থানে পেঁয়াজের ফালি রেখে দিতে পারেন। এ ছাড়া পেঁয়াজের রস আক্রান্ত স্থানে মালিশ করেও দেখতে পারেন। ব্যথা কমে যাবে।

কৃমি সমস্যায় : কৃমির সঙ্গে যুদ্ধ করতে পেঁয়াজের রস উপকারী। কৃমির সমস্যা থাকলে পেঁয়াজের রস খেতে পারেন।

চুল ঝরা কমাতে : পেঁয়াজের মধ্যে থাকা সালফার শুধু মাথার ত্বকে রক্ত সংবহনই উন্নত করে তা নয়, এর পাশাপাশি চুলে যথেষ্ট পুষ্টিও  জোগায়। চুলকে শক্তিশালী করে চুল ঝরা রোধ করে। পেঁয়াজের অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল গুণ মাথার খুলিতে রোগ সংক্রমণও প্রতিরোধ করে।

আঁচিল দূর করতে : শুধু পেঁয়াজের একটি টুকরা দিয়ে ব্যান্ডেজ বাঁধুন। আঁচিলের স্থানে কয়েক দিনের মধ্যে উন্নতি দেখতে পাবেন। প্রতিদিন ব্যান্ডেজ পাল্টাতে ভুলবেন না।

বমি কমাতে : বমি বমি ভাব বোধ হলে বা বারবার বমি হলে, দুই চামচ পেঁয়াজের রস এবং এরপর এক কাপ মেনথল চা খান। বমি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এর পুনরাবৃত্তি করতে পারেন।

Top