বদলে যাওয়া দুর্গম সাজেক ভ্যালী ! | Bahumat

বদলে যাওয়া দুর্গম সাজেক ভ্যালী !

12741947_1718518885037690_1101461316762446282_n

সাজেক- যার পরিচিতি ছিল দুর্গম অঞ্চল হিসেবে। অপহরণের ঘটনাও ঘটতো তাই সাজেকে পর্যটকদের যাওয়ার অনুমতিও দেয়া হতো না , তবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যদের অক্লান্ত পরিশ্রমে বদলে গেছে এলাকাটি। যোগাযোগ, শিক্ষা ও জনস্বাস্থ্যখাতসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়ন হওয়ায় এখন পাহাড়ি সৌন্দর্যের অহংকার সাজেক।
দূরের মানুষ দূরেই থাক, একসময় সাজেকের কাছাকাছি থাকা খাগড়াছড়ি এবং রাঙামাটি জেলার মানুষের কাছেই দুর্গম সাজেক যাওয়া অসম্ভব ছিল। কিন্তু যাতায়াতের সুবিধা থাকায় এখন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভ্রমন পিপাসু পর্যটক অনায়াসে সাজেক যেতে পারছেন।
সাজেকের সুউচ্চ পাহাড়ে দাঁড়ালে যে কেউ চলে যাবেন আকাশের কাছাকাছি। কল্পনাবিলাসী মনের অজান্তে হাত চলে যেতে পারে আকাশ ধরতে। আর নিচের দিকে তাকালে ভাবনা আসতেই পারে কিভাবে উঠলেন এতো উপরে! আকাশ আর পাহাড়ের অপূর্ব মিতালী দেখে হয়তো মনের অজান্তে বলে উঠবেন- আরো আগে আসা উচিত ছিল। সৃষ্টিকর্তার এক অপূর্ব সৃষ্টি সাজেক।
সৃষ্টিকর্তার নিপূন সৃষ্টি আর সেনাবাহীনির হাতের ছোঁয়ায় সাজেক ধারণ করেছে নৈসর্গিক সৌন্দর্য।  ২০১৪ সালের প্রথম সপ্তাহে খাগড়াছড়ি সেনা রিজিয়নের আওতাধীন দুর্গম সাজেক ইউনিয়নের রুইলুই পাড়ায় শুরু হয়েছে রুইলুই জুনিয়র হাই স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রম। স্বাধীনতার দীর্ঘ ৪৩ বছর পর একটি জুনিয়র স্কুল পেয়ে ২০ গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার এলাকাবাসীর আনন্দের সীমা নেই।
আনন্দের ষোলকলা পূর্ন হয়েছে একই সপ্তাহে সাজেকে যাওয়া-আসার জন্য প্রথমবারের মত বাস সার্ভিস চালু হওয়ায়। এর আগে নানা প্রতিকুলতা মোকাবিলা করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা নির্মাণ করেন ৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ খাগড়াছড়ি-দিঘীনালা-সাজেক সড়ক।
এর মধ্যে শুধু সাজেকে রাস্তার দু’পাশে নির্মাণ করা হয়েছে ফুটপাত। লাগানো হয়েছে সোলার স্ট্রীট লাইট। সাঁঝ ঘনিয়ে আসলেই জ্বলে উঠে সোলার স্ট্রীট লাইটগুলো। পানি সরবরাহের জন্য পোর্টেবল ওয়াটার সাপ্লাইয়ের প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সাজেকের লোকজনকে এখন আর বিশুদ্ধ পানির ভোগান্তিতে থাকতে হবেনা। এছাড়া সরকারিভাবে করে দেওয়া হয়েছে ক্লাব হাউজ, গীর্জা, মন্দিরসহ আরো অনেক প্রকল্প।
খাগড়াছড়ি সেনা রিজিয়নের উদ্যোগে বাস্তবায়িত হওয়া এসব প্রকল্পের উদ্বোধন করেন চট্রগ্রাম অঞ্চলের জিওসি মেজর জেনারেল সাব্বিরুল ইসলাম। তাই সাজেকবাসীর কৃতজ্ঞতা সেনাবাহিনীর কাছে, সরকারের কাছে।
প্রকৃতির সৌন্দর্য সমৃদ্ধ পার্বত্য অঞ্চল নিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চট্রগ্রাম অঞ্চলের জিওসি মেজর জেনারেল সাব্বিরুল ইসলাম বলেন, পার্বত্য অঞ্চল নিয়ে বর্তমান সরকারের উন্নয়নের অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে সেনা সদস্যরা বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ড করে যাচ্ছে। এ ধারা অব্যাহত থাকবে।
দুর্গম সাজেকবাসীর যোগাযোগের জন্য প্রথমবারের মত বাস সার্ভিস চালু করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে সাজেক এলাকাটি পর্যটকদের জন্য আরো আকর্ষনীয় ভ্রমন স্পট হওয়ার পাশাপাশি সাজেকবাসীর অর্থনৈতিক মুক্তিও আসবে- এই প্রত্যাশা সকলের।

পর্যটক আকর্ষণ :

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা ১৮০০ ফুট সাজেক এমন একটি জায়গা যেখানে ভাগ্য ভাল হলে ২৪ ঘণ্টায় আপনি প্রকৃতির তিনটা রূপই দেখতে পারবেন । কখনো খুবই গরম একটু পরেই হটাৎ বৃষ্টি এবং তার কিছু পরেই হয়তো চারদিকে ঢেকে যাবে কুয়াশার চাদরে । রাতে এই দুর্গম পাহাড়ের চুড়ায় যখন সোলারের কল্যাণে বাতি জ্বলে উঠে তখন সৃষ্টি হয় অসাধারণ এক পরিস্থিতি । অনেক বাচ্চারা রোড লাইটের নিচে বই নিয়ে বসে পড়ে অথবা ঐ টুকু আলোর ভিতরেই খেলায় মেতে উঠে । সাজেকে ৩টা হ্যালি প্যাড আছে ৩টার সৌন্দর্য তিন রকম । এছাড়া রুইলুই পারা হতে হেটে আপনি কমলং পারা পর্যন্ত যেতে পারেন এই পারাটিও অনেক সুন্দর এবং অনেক উচুতে অবস্থিত । কমলার সিজনে কমলা খেতে ভুলবেন না । সাজেকের কমলা বাংলাদেশের সেরা কমলা ।

কিভাবে আসবেন সাজেকে :

বাংলাদেশের যেকোন স্থান থেকে ঢাকা অথবা চট্টগ্রাম আসবেন। ঢাকার কমলাপুর এবং চট্টগ্রামের অক্সিজেন মোড় থেকে শান্তি, এস আলম, সৌদিয়া, শ্যামলী, ঈগল- এদের যে কোন পরিবহনে রাতে অথবা দিনে খাগড়াছড়ি আসা যায় ভাড়া ৬০০-৭০০ টাকা।খাগড়াছড়ি  থেকে দিঘিনালা পর্যন্ত বাস/চান্দের গারি/ সিএনজি রয়েছে । বাসে অ চান্দের গারিতে ভারা ৪৫/- জনপ্রতি । দিঘিনালা থেকে জন ভেদে চান্দের গাড়ি অথবা মটর বাইক নিতে পারেন । একদিনের জন্য চান্দের গাড়ি ভাড়া পরবে ৩০০০/- টাকা ২দিনের জন্য ৫০০০/- ( কথা বলে নিতে হবে ) ১২/১৩ জন যেতে পারবেন । এছারা মটর বাইক রয়েছে আপডাউন ৭০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে পেয়ে যাবেন।

Loading Facebook Comments ...
Top