শিক্ষার্থীরা মাদকাসক্ত হলে দায় শিক্ষকদের | Bahumat

শিক্ষার্থীরা মাদকাসক্ত হলে দায় শিক্ষকদের

AHD-nahid_1

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, যদি কোনো শিক্ষার্থী মাদকাসক্ত হয়, তাহলে তার দায় তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষকদের নিতে হবে।বুধবার দুপুরে রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে ‘মাদকবিরোধী সচেতনতা সৃষ্টিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘কোনো শিক্ষার্থী যদি মাদকাশক্ত হয়, তাহলে খোঁজ নিয়ে দেখা হবে, সে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের। সেই শিক্ষার্থী যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হবে, সেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষকদের দায়ী করা হবে। কারণ একজন শিক্ষার্থী যে স্কুলে পড়াশুনা করে, সে সেই স্কুলের শিক্ষকদের সঙ্গে সময় কাটায়, তাদের কথা শোনে।তিনি বলেন, ‘শুধু ভাল শিক্ষা দিলেই হবে না। শিক্ষার্থীরা কোথায় গেল, কী করল, তার খোঁজখবর রাখতে হবে এবং তাদেরকে ভাল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। শুধু ভাল পড়ালে হবে না, ভাল মানুষ করার দায়িত্বও শিক্ষকদের।মাদকের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ সময় সম্পর্কে বলতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘সবচেয়ে মাদক ঝুঁকিপূর্ণ সময় হচ্ছে মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। যে সব শিক্ষার্থী মাদকাসক্ত হয়, তারা মাধ্যমিক পর্যায় থেকেই শুরু করে। এরপর উচ্চমাধ্যমিকে গেলে তারা বাধাহীনভাবে মাদক সেবনের সুযোগ পায় ।তিনি বলেন, ‘৩২ হাজার ৩১টি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মাদক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মাদক নিয়ন্ত্রণের জন্য ইতিমধ্যে ২১ হাজার ৮৩টি প্রতিষ্ঠানে কমিটি করা হয়েছে। অর্থাৎ ৬৫ দশমিক ৪২ শতাংশে কমিটি করা হয়েছে। আর বাকি আছে ১০ হাজার ৯৪৮টি প্রতিষ্ঠান। যেগুলোতে এখনো কমিটি করা হয়নি। এসব প্রতিষ্ঠানে দ্রুত কমিটি করতে হবে।মন্ত্রী বলেন, ‘শুধু কমিটি করলেই হবে না। মাদক নিয়ন্ত্রণের জন্য এই সব কমিটিকে কাজ করতে হবে। সচেতনতামূলক সভা সেমিনার করতে হবে।অনেক সময় পরীক্ষায় ভাল ফলাফল না করায় পারিবারিক ও সামাজিকভাবে হেয় হওয়ার কারণেও অনেক শিক্ষার্থী মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়তে পারে। মন্ত্রী বলেন, ‘পরীক্ষায় পাস-ফেল থাকবেই । পাস ফেলের নেতিবাচক প্রভাব যাতে শিক্ষার্থীদের উপর না পড়ে, সেই জন্য পাস-ফেলের এই বাস্তবতা শিক্ষার্থীদের বুঝাতে হবে।মাদকের উৎস এবং চাহিদা রোধ করতে পারলে মাদকের করাল গ্রাস থেকে শিক্ষার্থীরা রক্ষা পাবে বলও জানান শিক্ষামন্ত্রী।তিনি বলেন, ‘সমাজ সচেতনতা, সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।’ এ ছাড়া খেলাধূলা, সংস্কৃতি, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও স্কুলের মাঠ রাখার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাচরিচালক খন্দকার রাকিবুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. মোজাম্মেল হক খান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ.এস. মাহমুদ ও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ফাহিমা খাতুন। এ ছাড়া জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সকল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান উপস্থিত ছিলেন।

Top