অ্যানফিল্ডে নতুন দুঃস্বপ্ন, পিএসভির কাছে চ্যাম্পিয়নস লিগে ভরাডুবি লিভারপুলের

অনলাইন ডেস্ক:

ঘরের মাঠ অ্যানফিল্ডে চ্যাম্পিয়নস লিগের রাতে যেন নিজেরাই নিজেদের হারিয়ে ফেলল লিভারপুল। বুধবার (২৬ নভেম্বর) পিএসভি আইন্দহোভেনের বিপক্ষে ৪–১ গোলের বড় ব্যবধানে হার দলটিকে আরও দুঃসময়েই ঠেলে দিয়েছে। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে সর্বশেষ ১২ ম্যাচে এটি তাদের নবম পরাজয়, যা ১৯৫৩ সালের পর সবচেয়ে বাজে সময়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এই মৌসুমে টানা সাত জয়ে দুর্দান্ত শুরু করেছিল আর্নে স্লটের দল। কিন্তু নভেম্বরের মাঝামাঝি এসে সেই ধারার কোনো ছায়াও নেই। প্রিমিয়ার লিগে নটিংহ্যাম ফরেস্টের বিপক্ষে ৩–০ গোলে হারার পর সমর্থকেরা যেমন হতাশায় ছিলেন, পিএসভির বিপক্ষে আরও বড় ব্যবধানের হার সেই শঙ্কাকে বাস্তবে রূপ দিল।

 

অ্যানফিল্ডে ম্যাচের শুরুতেই ভুলে ভেঙে পড়ে লিভারপুল। ষষ্ঠ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করেন পিএসভির ইভান পেরিসিচ। কর্নার থেকে উড়ে আসা বল ভার্জিল ফন ডাইক হাত দিয়ে ঠেকিয়ে দেওয়ায় রেফারি স্পটকিক দেন, আর সেই সুযোগ হাতছাড়া করেননি ক্রোয়াট তারকা।

 

মাত্র দশ মিনিট পর সমতায় ফেরার সুযোগ কাজে লাগান দমিনিক সোবোসলাই। কোডি গাকপোর শট ফিরিয়ে দিলে সেই রিবাউন্ডে গোল করে লিভারপুলকে কিছুটা স্বস্তি এনে দেন তিনি। বিরতিতে দুই দল ১–১ সমতায় থাকলেও গল্পটা বদলে যায় দ্বিতীয়ার্ধে।

 

৫৬ মিনিটে গাস তিল লিভারপুলের রক্ষণ আরেকবারভেঙে দেন। এরপর ৭৩ মিনিটে সোহেইব দ্রিউয়েশ ব্যবধান বাড়ান। অতিরিক্ত সময়ের প্রথম মিনিটে একই খেলোয়াড় দলের চতুর্থ গোল করলে অ্যানফিল্ডে নেমে আসে স্তব্ধতা। লিভারপুলের ডাগআউটে তখন হতাশা ছাড়া কোনো শব্দ ছিল না।

 

 

 

ম্যাচ শেষে কারও মুখেই স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা নেই। আইরিশ গণমাধ্যম আরটিইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কার্টিস জোনস স্পষ্টই বলেন, এই ব্যর্থতার ব্যাখ্যা পাওয়া কঠিন। তিনি বলেন, সত্যি বলতে, এর উত্তর আমার কাছে নেই। ভেতরে ভেতরে রাগও পেরিয়ে গেছি। এখন শুধু হতাশার মধ্যেই আছি।

 

পিএসভির জয়ের গুরুত্বও কম নয়। ২০০৮ ইউরোপা লিগে টটেনহ্যামকে হারানোর পর এত বড় ব্যবধানে কোনো ইংলিশ ক্লাবের বিপক্ষে তাদের এটাই প্রথম জয়। ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় ইংল্যান্ডের মাটিতে ডাচ ক্লাবগুলোর জন্যও এটি সবচেয়ে বড় জয়।

 

লিভারপুলের বর্তমান অবস্থান এখন আরও বিব্রতকর। পাঁচ ম্যাচে তিন জয় ও দুই হারে ৯ পয়েন্ট নিয়ে তারা চ্যাম্পিয়নস লিগের লিগ পর্বে ১৩তম স্থানে। সমান ম্যাচে দুটি জয় ও দুটি ড্রয়ে ৮ পয়েন্ট নিয়ে পিএসভি রয়েছে ১৫তম স্থানে। আর ৫ ম্যাচে পূর্ণ ১৫ পয়েন্ট নিয়ে

শীর্ষে আর্সেনাল।

কোচ আর্নে স্লট অবশ্য নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো উদ্বেগ দেখাননি। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, নিজের অবস্থান নিয়ে ভাবছি না। এখন দলকে কীভাবে ফেরানো যায় সেটাই প্রধান বিষয়। দলের সবার জন্যই এই ফলটা ধাক্কার। কিন্তু আমরা আরও ভালো করতে পারি, আমাকেও আরও ভালো করতে হবে।

লিভারপুলের সমর্থকেরা আশা করছিলেন নতুন কোচ স্লটের পাস অ্যান্ড প্রেসিং ফুটবল দলকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে। কিন্তু পাঁচ দিনের ব্যবধানে ঘরের মাঠে সাত গোল হজম করে ধারাবাহিক ব্যর্থতা যেন নতুন করে সতর্ক ঘণ্টা বাজাচ্ছে। অ্যানফিল্ডের সেই অদম্য আত্মবিশ্বাস কোথায় যেন হারিয়ে গেছে।