উত্তরাঞ্চলে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে আজ চালু হচ্ছে তৃতীয় তিস্তা সেতু

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে চালু হতে যাচ্ছে উত্তরাঞ্চলের বহুল প্রত্যাশিত তৃতীয় তিস্তা সড়ক সেতু। আজ বুধবার (২০ আগস্ট) আনুষ্ঠানিকভাবে যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে প্রায় ১.৪৯ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই সেতুটি, যা কুড়িগ্রামের চিলমারী এবং গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করছে।

এর আগে পাঁচবার সময়সীমা পেছালেও অবশেষে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর তত্ত্বাবধানে শেষ হয়েছে নির্মাণকাজ। সেতুর মূল কাঠামো নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৩৬৭ কোটি টাকা এবং সংযোগ সড়ক, নদীশাসন, কালভার্ট ও জমি অধিগ্রহণে ব্যয় হয়েছে ৩৬৩ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। এটি তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত সবচেয়ে দীর্ঘ সড়ক সেতু।

সেতুটি নির্মাণে ব্যবহৃত হয়েছে ২৯০টি পাইল, ৩০টি পিলার, ২৮টি স্প্যান ও ১৫৫টি গার্ডার। নদীশাসন ও সংযোগ সড়কসহ মোট ৫৭ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে এবং অধিগ্রহণ করা হয়েছে ১৩৩ একর জমি। পানি নিষ্কাশনের জন্য উভয় প্রান্তে তৈরি হয়েছে ১২টি ব্রিজ ও ৫৮টি বক্স কালভার্ট।

এ প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে, ইফাদ (IFAD)-এর অর্থায়নে এবং চায়না স্টেট কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে।

স্থানীয়দের মতে, এই সেতু উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে।
৬৫ বছর বয়সী কৃষক সিরাজুল হক বলেন, ‘অবশেষে আমাদের স্বপ্ন পূরণ হলো। এই সেতুই আমাদের জীবনমান বদলে দেবে।’
স্থানীয় শিক্ষক জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘এ সেতু শুধু যোগাযোগ নয়, উন্নয়নেরও প্রতীক।’
চিলমারীর ব্যবসায়ী রণজিত চন্দ্র সাহা জানান, সেতু চালু হলে কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকার দূরত্ব ৯০ থেকে ১০০ কিলোমিটার কমে যাবে, ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

গাইবান্ধা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল চৌধুরী বলেন, ‘এই সেতুটি তিস্তাপাড়ের মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। এটি শুধু অবকাঠামো নয়, একটি সম্ভাবনার প্রতিচ্ছবি।’