নিজস্ব প্রতিবেদক:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে নির্বাচনী জোট ও আসন সমঝোতার দাবি ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আব্দুল কাদেরের একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে এই আলোচনার সূত্রপাত।
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকালে এক ফেসবুক পোস্টে আব্দুল কাদের দাবি করেন, সবকিছু ঠিক থাকলে শুক্রবারই (২৬ ডিসেম্বর) জামায়াত ও এনসিপির জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, এনসিপি প্রাথমিকভাবে ৫০টি আসন চাইলেও বর্তমানে ৩০টি আসনে সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাকি ২৭০টি আসনে এনসিপি কোনো প্রার্থী না দিয়ে জামায়াতকে সমর্থন জানাবে। আব্দুল কাদের একে “তারুণ্যের রাজনীতির কবর রচনা” হিসেবে অভিহিত করেছেন।
যদিও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এনসিপির সঙ্গে আসন সমঝোতার আলোচনার কথা স্বীকার করেছেন। অন্যদিকে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব জানিয়েছেন, আলোচনা চললেও এখনো চূড়ান্ত কিছু হয়নি।
রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার সন্ধ্যায় এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের বাসায় সাক্ষাৎ করেন। যদিও একে সৌজন্য সাক্ষাৎ বলা হচ্ছে, তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন আসন বণ্টনই ছিল মূল আলোচ্য বিষয়। উল্লেখ্য যে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে এবং এনসিপি ইতোমধ্যে ‘শাপলা কলি’ প্রতীক নিয়ে শতাধিক প্রার্থী ঘোষণা করেছে।
এই সম্ভাব্য জোটের খবর জানাজানি হওয়ার পর জুলাই অভ্যুত্থানের সঙ্গে যুক্ত তরুণ সমাজ ও রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া, ক্ষোভ ও ব্যাপক জল্পনা ছড়িয়ে পড়েছে।











