নিজস্ব প্রতিবেদক:
চব্বিশের জুলাই–আগস্টে গণঅভ্যুত্থান দমনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার রায় আজ সোমবার ঘোষণা করা হচ্ছে। বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১-এর তিন সদস্যের বেঞ্চ রায় প্রদান করবেন, যা বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) সরাসরি সম্প্রচার করবে। দেশের ইতিহাসে এটাই প্রথমবার কোনো সাবেক সরকার প্রধানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রায় ঘোষণা হতে যাচ্ছে।
মামলার অন্য দুই আসামি হলেন—পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন। ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠনের পর শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেই সর্বপ্রথম এই মিসকেস বা বিবিধ মামলা গ্রহণ করা হয়। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয় এবং গত বছরের ১৭ অক্টোবর প্রথম বিচারকাজ অনুষ্ঠিত হয়। সেদিনই শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
এ মামলায় প্রথমবারের মতো কোনো আসামি ‘অ্যাপ্রুভার’ (রাজস্বাক্ষী) হয়েছেন—সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন। দোষ স্বীকার করে ঘটনার বিবরণ দেওয়ার আবেদন করলে ট্রাইব্যুনাল তা গ্রহণ করে। তদন্ত সংস্থা গত ১২ মে প্রতিবেদন চিফ প্রসিকিউশন কার্যালয়ে জমা দেয় এবং ১ জুন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করা হয়। অভিযোগপত্রে শেখ হাসিনাকে জুলাই–আগস্টের নৃশংস ঘটনার ‘মাস্টারমাইন্ড, হুকুমদাতা ও সুপিরিয়র কমান্ডার’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তিন আসামির বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়।
অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে—১৪ জুলাই গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ, রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা, রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছয় আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যা এবং আশুলিয়ায় ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ।
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আরও তিনটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে—এর মধ্যে দুটি মামলায় আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছরে সংঘটিত গুম-খুনের অভিযোগ এবং আরেকটি মামলা হেফাজতে ইসলামের শাপলা চত্বরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে। আইনজীবীরা জানিয়েছেন, দায়ের করা মামলাগুলোর মধ্যে এটিই প্রথম যার রায় ঘোষণা হচ্ছে।











