থাইল্যান্ডে যাত্রীবাহী ট্রেনের ওপর ক্রেন ভেঙে পড়ে নিহত ২২

অনলাইন ডেস্ক:

থাইল্যান্ডের নাখন রাতচাসিমা প্রদেশে ভয়াবহ এক রেল দুর্ঘটনায় অন্তত ২২ জন নিহত এবং ৭৯ জন আহত হয়েছেন। একটি উচ্চগতির রেললাইন প্রকল্পে ব্যবহৃত ক্রেন যাত্রীবাহী ট্রেনের ওপর ভেঙে পড়লে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়ে আগুন ধরে যায়। বুধবার সকাল ৯টার দিকে রাজধানী ব্যাংককের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

নাখন রাতচাসিমা প্রদেশের পুলিশপ্রধান থাচাপোন চিন্নাওং ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ট্রেনের বগির ভেতরে আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধারে উদ্ধারকারী দল এখনও কাজ করছে। এখন পর্যন্ত ঘটনাস্থল থেকে ২২টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

বিবিসির বরাতে রাজ্য রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনটিতে অন্তত ১৯৫ জন যাত্রী ছিলেন, যদিও প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, উজ্জ্বল রঙের একটি ট্রেন কাত হয়ে পড়ে আছে এবং ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম চালাচ্ছেন।

নাখন রাতচাসিমা প্রাদেশিক জনসংযোগ দপ্তরের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, নির্মাণাধীন রেল প্রকল্পে ব্যবহৃত একটি ক্রেন ট্রেনের ওপর পড়ে গেলে এই দুর্ঘটনার সূত্রপাত হয়। থাইল্যান্ডের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পরিবহনমন্ত্রী ফিপাত রাচাকিটপ্রাকর্ণ ঘটনাটির কারণ অনুসন্ধানে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, দুর্ঘটনাকবলিত ক্রেনটি ৫ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের একটি উচ্চগতির রেল নেটওয়ার্ক নির্মাণ প্রকল্পে ব্যবহৃত হচ্ছিল। চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই প্রকল্পের মাধ্যমে ২০২৮ সালের মধ্যে লাওস হয়ে ব্যাংকককে চীনের কুনমিংয়ের সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।

থাইল্যান্ডে এর আগেও নিরাপত্তা ত্রুটির কারণে একাধিক বড় দুর্ঘটনার নজির রয়েছে। গত বছর মার্চে ভূমিকম্পের সময় একটি নির্মাণাধীন টাওয়ার ব্লক ধসে শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটে। এছাড়া গত সাত বছরে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্ঘটনায় প্রায় ১৫০ জন নিহত হয়েছেন।