জেলা প্রতিনিধি :
সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার চৈতন্নগর গ্রামে স্কুলছাত্র সুমেল মিয়া (১৮) হত্যা মামলায় আটজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া আরও ১৭ জনকে দুই বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মামলার ৩২ জন আসামির মধ্যে একজন এখনও পলাতক রয়েছেন।
বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সিলেটের অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রথম আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক সৈয়দা আমিনা ফারহীন এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন:যুক্তরাজ্যপ্রবাসী সাইফুল আলম, নজরুল, সদরুল, সিরাজ, জামাল, শাহিন, আব্দুল জলিল ও আনোয়ার।
যাবজ্জীবনপ্রাপ্তরা হলেন:ইলিয়াছ, আব্দুন নুর, জয়নাল, আশিক, আছকির, ফরিদ ও আকবর।
মামলায় মোট ২৩ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন।
২০২১ সালের ১ মে চৈতন্নগর গ্রামের নজির উদ্দিনের খেত থেকে জোর করে রাস্তার মাটি তুলতে যান যুক্তরাজ্যপ্রবাসী সাইফুল আলম। এতে বাধা দেন নজির উদ্দিন, তাঁর ভাই মানিক মিয়া এবং ভাতিজা সুমেল মিয়া, যিনি তখন ১০ম শ্রেণির ছাত্র। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সাইফুল আলমের গুলিতে সুমেল মিয়া ঘটনাস্থলেই নিহত হন, এবং আরও চারজন গুলিবিদ্ধ হন।
ঘটনার দু’দিন পর, ৩ মে সুমেলের চাচা ইব্রাহিম আলী সিজিল বাদী হয়ে ২৭ জনের নাম উল্লেখ করে বিশ্বনাথ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ মোট ৩২ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে।
প্রায় চার বছর বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত আজ রায় ঘোষণা করেন। মামলার প্রধান আসামি সাইফুল আলম গ্রেফতারের পর থেকে প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে কারাগারে আছেন। মামলার একজন এজাহারভুক্ত আসামি মামুনুর রশীদ এখনও পলাতক।










