অনলাইন ডেস্ক:
পেয়ারা ফলের মতোই এর পাতার চা এখন স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের মাঝে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ফ্ল্যাভোনয়েডে সমৃদ্ধ এই চা হজমশক্তি বৃদ্ধি, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ, লিভারের স্বাস্থ্য রক্ষা, হৃদযন্ত্রের উন্নতি এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ানোর মতো একাধিক স্বাস্থ্য উপকারিতার জন্য প্রশংসিত হচ্ছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, পেয়ারা পাতার নির্যাস ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কমায় এবং ইনসুলিন প্রতিরোধ হ্রাস করে। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেলথের তথ্যানুযায়ী, এটি লিভারে চর্বি জমা রোধে সহায়ক। এছাড়া, আফ্রিকান জার্নাল অফ বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ এবং হাইল্যান্ড মেডিকেল রিসার্চ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা বলছে, পেয়ারা পাতার চা শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর গুণগত মান উন্নত করে এবং প্রজনন হরমোনের মাত্রা বাড়ায়, যা গর্ভধারণের সম্ভাবনা বৃদ্ধিতে সহায়ক।
হজম সমস্যায় ভুগছেন? পেয়ারা পাতার চা গ্যাস্ট্রাইটিস, ডায়রিয়া এবং পেট ফাঁপার মতো সমস্যা দূর করতে পারে। জার্নাল অফ মেডিসিনাল ফুড (২০১০)-এর গবেষণা অনুযায়ী, এটি রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, যা প্রি-ডায়াবেটিস ও টাইপ ২ ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী। এছাড়া, এর অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণ ব্রণ দূর করে ত্বকের উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনে। হৃদযন্ত্রের জন্যও এটি উপকারী, কারণ এটি ‘খারাপ’ কোলেস্টেরল কমায় এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস হ্রাস করে।
ওজন নিয়ন্ত্রণে আগ্রহী? পেয়ারা পাতার চা মেটাবলিজম বাড়ায় এবং ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করে, যা ওজন ও পেটের চর্বি কমাতে সহায়ক। এটি ক্যালোরিবিহীন এবং হাইড্রেটিং একটি পানীয়।
ঘরে পেয়ারা পাতার চা তৈরির পদ্ধতি
- পানি ফুটিয়ে তাতে পেয়ারা পাতা এবং স্বাদের জন্য লবঙ্গ বা দারচিনি যোগ করুন।
- ১০-১২ মিনিট ধীরে ফুটতে দিন।
- ছেঁকে গরম পান করুন। দিনে ১-২ বার, সকালে বা রাতে ঘুমানোর আগে পান করা যায়।
এই সহজলভ্য পানীয়টি দৈনন্দিন জীবনে যোগ করে স্বাস্থ্যের উপকার পেতে পারেন।











