হান্নান মাসউদের মুচলেকায় ছাড়া পাওয়া সেই রাব্বি চাঁদাবাজির মামলায় কারাগারে

অনলাইন ডেস্ক:

চাঁদাবাজির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক সাইফুল ইসলাম রাব্বিসহ পাঁচজনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। তাদের রিমান্ডে নেওয়ার বিষয়ে শুনানি আজ মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল সোমবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আতিকুর রহমান এ আদেশ দেন। এর আগে, গত রোববার রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বসিলা এলাকায় একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চাঁদাবাজির সময় সেনবাহিনী তাদের আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পরে এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠায় পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত অপর আসামিরা হলেন, বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ঢাকা মহানগর মোহাম্মদপুর থানার যুগ্ম সমন্বয়কারী আব্দুর রহমান মানিক, হাবিবুর রহমান ফরহাদ, মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান ও মো. শাহিন হোসেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক মিজানুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আজ (গতকাল সোমবার) পাঁচজনকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ পুর থানার উপপরিদর্শক মো. নাজমুল ইসলাম ৭ দিনের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করেন। আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। একইসঙ্গে রিমান্ড শুনানির জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করেন। রিমান্ড আবেদন বলা হয়, প্রাথমিক তদন্তে আসামিদের মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার পর্যাপ্ত তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের শনাক্ত এবং মূল রহস্য উদঘাটন করার জন্য গ্রেপ্তারকৃতদের পুলিশি হেফাজতে সাত দিন জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। উল্লেখ্য, চাঁদাবাজির ওই ঘটনায় সেইফ হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক শিল্পী আক্তার মোহাম্মদপুর থানার মামলা করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১২টার দিকে মো. শাহিনের গর্ভবর্তী স্ত্রীর অবস্থা জটিল হয়ে ওঠে। এ সময় তিনি সেইফ হাসপাতালে এসে ডেলিভারির অনুরোধ করেন। কর্তৃপক্ষ তাকে অন্য হাসপাতালে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। তবে তার পুনঃপুন অনুরোধে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত কাগজপত্রে সই নিয়ে ডেলিভারির কাজ শুরু করেন। তবে নরমাল ডেলিভারিতে একটি মৃত বাচ্চা প্রসব হয়। এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলায় বাচ্চা মারা গেছে এমন অভিযোগ তুলে মামলা করার হুমকি দেন তিনি। মামলার ভয় দেখিয়ে গত ২২ সেপ্টেম্বর হাসপাতাল মালিকের ছেলে আবু সাঈদের কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন অভিযুক্তরা। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় তারা হাসপাতালের মেশিন ও সিসি ক্যামেরা ভাংচুর করে দেড় লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করেন। একপর্যায়ে আসামীরা সাঈদকে তুলে নিয়ে হত্যার হুমকি দেন। ভয়ে আসামিদের ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দেন বাদী। এরপর আসামিরা চাঁদা চলে যায় এবং আরও টাকার জন্য চাপ দেয়। এরপর বিভিন্ন সময় আসামিরা মোবাইল ফোনে টাকা চায়। ২৮ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে আসামিরা ফের এসে ১ লাখ টাকা চাঁদা নেয়। এ সময় হাসপাতালের মালিক ফোন করলে সেনাবাহিনীর সদস্যরা গিয়ে পাঁচজনকে আটক করেন। উল্লেখ্য, গত ১৯ মে রাতে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে হাক্কানী পাবলিশার্সের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফার বাসা ঘেরাও করে উত্তেজিত জনতা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা। জোর করে বাসার ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন তারা। ৯৯৯-এ কল করে পরিস্থিতি জানিয়ে অভিযোগ করার পর ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। গোলাম মোস্তফাকে গ্রেপ্তারে চাপ ও পুলিশের সঙ্গে বাগ্বিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন উপস্থিত কয়েকজন।

এ ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন মোহাম্মদপুর থানার তৎকালীন সমন্বয়ক সাইফুল ইসলাম রাব্বিসহ কয়েকজনকে হেফাজতে নেয় ধানমন্ডি থানা-পুলিশ। পরদিন ধানমন্ডি থানায় উপস্থিত হয়ে মুচলেকা দিয়ে সাইফুল ইসলাম রাব্বিসহ অন্যদের ছাড়িয়ে আনেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতা আব্দুল হান্নান মাসউদ।