অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম বাজেটে দুই লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট উত্থাপন করেছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। সোমবার বিকেল ৩টায় রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যমে বাজেট বক্তব্য প্রচার করা হয়, যা বেসরকারি টিভি ও বেতারেও একযোগে সম্প্রচারিত হয়।

এই বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। এ ঘাটতির মধ্যে এক লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা আসবে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে এবং এক লাখ এক হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক উৎস থেকে।

অর্থ উপদেষ্টা জানান, “আগামী অর্থবছরে সামগ্রিক ঘাটতি ও ঋণ সহনীয় পর্যায়ে থাকবে।” ঘাটতি কমিয়ে বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাজেটের আকার ছোট রাখা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সুদ পরিশোধ বাবদ ব্যয় ধরা হয়েছে এক লাখ ২২ হাজার কোটি টাকা। পরিচালন খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাবদ ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা।

স্বাধীনতার পর এই প্রথমবারের মতো একটি বাজেট আগের অর্থবছরের তুলনায় ছোট হয়েছে। প্রায় দেড় যুগ আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর থাকা সালেহউদ্দিন আহমেদের উপদেষ্টা হিসেবে এটিই প্রথম বাজেট।

তিনি জানান, আন্দোলন ও রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে স্বল্প আয়ের মানুষদের জন্য বাজেটে কিছুটা ‘স্বস্তি’ দেওয়ার পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি যেমন বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী ও দুঃস্থদের ভাতা অব্যাহত থাকবে এবং কিছুটা বাড়ানোও হবে।

এছাড়া ‘জুলাই আন্দোলনে’ ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের জন্য বাজেটে বিশেষ ব্যবস্থা রাখার কথা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে বাজেট ও অর্থ বিল অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে অর্থ উপদেষ্টা সহ অন্যান্য উপদেষ্টারা উপস্থিত ছিলেন।

সংসদ না থাকায় আগামী ৩০ জুন রাষ্ট্রপতি বাজেট অধ্যাদেশে সই করবেন এবং ১ জুলাই থেকে বাজেট কার্যকর হবে। তবে ট্যাক্স ও কাস্টমস সংক্রান্ত অনেক বিধান ২ জুন থেকেই কার্যকর হচ্ছে।