অবৈধ আহরণে সুনামগঞ্জের হাওরে দেশীয় মাছের সংকট

জেলা প্রতিনিধি :

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলা, যা হাওরবেষ্টিত অঞ্চল হিসেবে পরিচিত, একসময় দেশীয় মাছের ভান্ডার ছিল। রুই, কাতলা, চিতল, বোয়াল, শোল-গজার, পাবদা, টেংরাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের সমৃদ্ধ ছিল এ এলাকা। তবে সময়ের পরিবর্তনে এবং মানবসৃষ্ট নানা কর্মকাণ্ডের ফলে ধ্বংসের পথে দেশীয় মাছের এই ভান্ডার।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছর মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার, অবৈধ কারেন্ট জাল, চায়না দুয়ারী ও বিল শুকিয়ে মাছ আহরণের কারণে মাছ ও জীববৈচিত্র্যের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। একাধিক বিল শুকিয়ে শ্যালো মেশিনের সাহায্যে মাছ ধরা হচ্ছে, এমনকি রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করে মাছ আহরণ করায় কিছু প্রজাতি বিলুপ্তির পথে।

জানা গেছে, জামালগঞ্জ উপজেলায় ২০ একরের নিচে ৪১টি বিল রয়েছে, যার আয়তন ১৫৬.৩০ হেক্টর এবং ২০ একরের ওপরে ৩৯টি বিল, যার আয়তন ১,৯১১.৩০ হেক্টর। সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার দিঘা, বাইম দাইর, গঙ্গাধরপুর নদী জলমহালের (উরা বিল) একাংশ শুকিয়ে মাছ আহরণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় মৎস্যজীবীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বর্ষার সময় তাদের মাছ ধরতে বাধা দেওয়া হলেও এখন অবৈধভাবে বিল শুকিয়ে মাছ ধরা হচ্ছে, যা প্রশাসনের নজরে এলেও কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুশফিকীন নূর বলেন, “বৈধ অনুমতি থাকলে নির্দিষ্ট অংশ খনন করা যাবে, তবে অবৈধভাবে বিল শুকিয়ে মাছ ধরলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, “ইজারাদারেরা বিল শুকিয়ে মৎস্য ও জীববৈচিত্র্য বিনষ্ট করে ইজারার শর্ত ভঙ্গ করেছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তাদের ইজারা বাতিল করা হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, হাওরের জীববৈচিত্র্য ও দেশীয় মাছ রক্ষায় প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে মাছ ও জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব সংকটে না পড়ে।