অ্যান্ড্রুর গ্রেপ্তারে রাজা চার্লসের সামনে নতুন সংকট

অনলাইন ডেস্ক:

ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস তাঁর ভাই প্রিন্স অ্যান্ড্রুর গ্রেপ্তারের পর নতুন এক বড় সংকটের মুখে পড়েছেন। রাজত্বের শুরু থেকেই ব্যক্তিগত ও পারিবারিক নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যে থাকা চার্লসের জন্য এটি আরেকটি বড় ধাক্কা।

লন্ডন থেকে এএফপি জানায়, রয়্যাল ভাষ্যকার এড ওয়েন্স বলেন, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে সিংহাসনে আরোহণের পর থেকে চার্লস একের পর এক ছোট ছেলে হ্যারি ইস্যু, নিজের স্বাস্থ্য, প্রিন্সেস অব ওয়েলস ক্যাথরিনের অসুস্থতা এবং এখন অ্যান্ড্রুকে ঘিরে বিতর্ক ইত্যাদি সংকটের মুখোমুখি হয়েছেন।

দীর্ঘ অপেক্ষার পর ২০২২ সালে মা দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুর পর চার্লস সিংহাসনে বসেন। ২০২৩ সালের ৬ মে তাঁর জাঁকজমকপূর্ণ অভিষেক অনুষ্ঠান ঐতিহ্য ও ধারাবাহিকতার বার্তা দেয়।

কিন্তু তার আগেই শুরু হয় অস্থিরতা। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে ছোট ছেলে প্রিন্স হ্যারি তাঁর স্মৃতিকথা ‘স্পেয়ার’ প্রকাশ করে রাজপরিবারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ আনেন। পরিবার থেকে দূরে ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাসকারী হ্যারির সঙ্গে রাজপরিবারের দূরত্ব এখনো পুরোপুরি কাটেনি।

 

২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ৭৭ বছর বয়সী চার্লস ক্যানসারের চিকিৎসাধীন থাকার কথা জানান। অল্প কিছুদিন পরই প্রিন্স উইলিয়ামের স্ত্রী ক্যাথরিন, প্রিন্সেস অব ওয়েলস, ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার কথা জানান। যদিও ক্যাথরিন পরে জানান তিনি রেমিশনে আছেন এবং ডিসেম্বর মাসে চার্লসও জানান তাঁর চিকিৎসা কমানো হয়েছে, তবু অসুস্থতা রাজপরিবারের ওপর দীর্ঘ ছায়া ফেলেছে।

 

তবে সবচেয়ে গুরুতর চ্যালেঞ্জ এসেছে ছোট ভাই অ্যান্ড্রুকে ঘিরে। মার্কিন দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে অ্যান্ড্রুর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক নিয়ে বহু বছর ধরেই বিতর্ক চলছিল।

 

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ নতুন নথি প্রকাশ করলে বিতর্ক আবারও তীব্র হয়। বৃহস্পতিবার অ্যান্ড্রুকে ২০০১-২০১১ সময়কালে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে এপস্টেইনকে গোপন তথ্য সরবরাহের সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়। আধুনিক ইতিহাসে এই প্রথম ব্রিটিশ রাজপরিবারের কোনো জ্যেষ্ঠ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হলো।

 

চার্লস এক বিরল ব্যক্তিগত বিবৃতিতে বলেন, ‘আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে’[ এবং তিনি ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করেন।

 

বিশ্লেষকদের কেউ কেউ এ ঘটনাকে ১৯৩৬ সালে অষ্টম এডওয়ার্ডের সিংহাসন ত্যাগ বা ১৯৯৭ সালে প্রিন্সেস ডায়ানার মৃত্যুর মতো বড় সংকটের সঙ্গে তুলনা করছেন।

 

রয়্যাল ইতিহাসবিদদের মতে, যদি প্রমাণ হয় যে রাজপরিবার অ্যান্ড্রুকে রক্ষা বা সহায়তা করেছে, তবে তা রাজতন্ত্রের নৈতিক ভিত্তিকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

 

বিশেষজ্ঞ পলিন ম্যাকলারান বলেন, রানির দীর্ঘ শাসনামল রাজতন্ত্রকে স্থিতিশীলতা দিয়েছিল। তাঁর মৃত্যুর পর স্বাভাবিকভাবেই একটি অস্থির সময় শুরু হয়েছে।

 

আরেক ভাষ্যকারের মতে, ‘অ্যান্ড্রু ছিল এক অবিস্ফোরিত বোমা, যা রানি চার্লসের হাতে তুলে দিয়ে গেছেন।’

 

পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজতন্ত্রের নৈতিক কর্তৃত্ব পুনরুদ্ধারে দৃশ্যমান পরিবর্তন প্রয়োজন হতে পারে, যা ভবিষ্যৎ রাজা প্রিন্স উইলিয়াম ইঙ্গিত দিয়েছেন।