আইএমএফের নতুন শর্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ পরিস্থিতি স্থিতিশীল

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাংলাদেশের চলমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের লক্ষ্যমাত্রার শর্ত শিথিল করেছে। আইএমএফ ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশের ন্যূনতম নিট রিজার্ভ ১ হাজার ৯৪৩ কোটি ডলার রাখার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল, যা এখন কমিয়ে ১৭ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলারে নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া, চলতি ডিসেম্বরের শেষে ১ হাজার ৫৩০ কোটি ডলার রিজার্ভ বজায় রাখার শর্ত ছিল, তবে গত সোমবার পর্যন্ত রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৯০ কোটি ডলার, যা আইএমএফের পরবর্তী ঋণের কিস্তি পরিশোধে কোনো বাধা সৃষ্টি করবে না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

আইএমএফ সম্প্রতি বাংলাদেশের ৪৭০ কোটি ডলার ঋণের শর্তের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেছে। বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত আইএমএফ প্রতিনিধি দলের সমাপনী সভায়, বাংলাদেশকে বিনিময় হার নির্ধারণে আরও বাজারভিত্তিক পদ্ধতি অবলম্বন করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, এই পদ্ধতি সহজতর করতে শিগগিরই একটি নতুন পদ্ধতি চালু করা হবে।

আইএমএফ দুর্বল ব্যাংকগুলোর স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ২২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ সহায়তার সুপারিশ করেছে। এ ছাড়া, সংস্থাটি সতর্ক করেছে যে, অর্থ সরবরাহ বাড়ানোর জন্য কোনো নতুন ব্যবস্থা গ্রহণ করলে তা মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি করতে পারে, যা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আইএমএফ আরও জানিয়েছে, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি এবং আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য একটি পুনর্গঠিত মুদ্রানীতি কাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজন। এসব পদক্ষেপ ২০২৫ সালের মার্চের মধ্যে বাস্তবায়িত হওয়ার আশা রয়েছে। পাশাপাশি, আইএমএফ আর্থিক তদারকি বাড়ানোর জন্য সময়মতো অর্থনৈতিক সূচক ও নিয়ন্ত্রক তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছে।