আইএমএফের শর্তে বাংলাদেশের রাজস্ব আদায়ে চাপ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বর্তমান অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। চলমান ৪৭০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ কর্মসূচির আওতায় আইএমএফ বাংলাদেশকে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি করতে আরও কঠোর শর্ত দিয়েছে। এ বছরের জন্য এনবিআরের (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড) রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে জিডিপির দশমিক ৬ শতাংশ। যদিও গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ছিল জিডিপির দশমিক ৫ শতাংশ, কিন্তু সেই লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়েছে এনবিআর। চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসেও রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা গেছে, যা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এনবিআর জিডিপির দশমিক ৫ শতাংশ রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য রাখার অনুরোধ করলেও আইএমএফ তা মেনে নেয়নি। বরং রাজস্ব আদায়ের শর্ত বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে সংস্থাটি। আইএমএফের শর্তের মধ্যে রয়েছে, আগামী ২০২৭ সালের ১ জুলাইয়ের মধ্যে বিদ্যমান সব ধরনের করছাড় বাতিল করা এবং আয়কর আইনের ৭৬(১) ধারা বাতিলের মাধ্যমে করছাড় দেওয়ার স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতা প্রত্যাহার করা। এর জন্য এনবিআর একটি কমিটি গঠন করেছে, যা বিভিন্ন খাতে দেওয়া করছাড়ের পরিমাণ বিশ্লেষণ করবে।

এছাড়া আইএমএফ একক হারে ভ্যাট আদায়ের পক্ষে হলেও, এনবিআর বর্তমানে ভ্যাট আদায়ের জন্য বিভিন্ন হারের ব্যবস্থা রেখেছে। এই বিষয়েও আইএমএফ সরকারের কাছে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। আইএমএফের শর্তে, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি কমানোর জন্য সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। বর্তমানে এই দুই খাতে ভর্তুকির পরিমাণ প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকা, যা সরকারের জন্য আরেকটি গুরুতর অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ।

এনবিআর অবশ্য মনে করে যে, আইএমএফের দেওয়া রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য অর্জন করা অসম্ভব নয়। এনবিআরের চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান এই বিষয়ে জানান, তাদের জন্য এটি একটি চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য হলেও তাদের আশা, তারা এটি পূরণ করতে সক্ষম হবে।

এদিকে, সরকার মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যদিও আইএমএফ এসব খাতে ভর্তুকি কমানোর জন্য চাপ দিচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখন গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানো যাবে না, কারণ এতে মূল্যস্ফীতি আরও বেড়ে যাবে। তবে, আইএমএফ ঋণের চতুর্থ কিস্তি ছাড়ের জন্য এসব শর্ত বাস্তবায়ন করতে সরকারের ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছে।

২০২২ সালে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় আইএমএফের কাছে ঋণ চায়। আইএমএফ ঋণের প্রথম কিস্তি ছাড় দেয়ার পর, বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত তিনটি কিস্তি পেয়ে এসেছে, আর চতুর্থ কিস্তি ছাড়ের জন্য শর্ত পূরণের বিষয়ে আইএমএফ তাগিদ দিয়েছে।