নিজস্ব প্রতিবেদক:
আগস্ট মাসে দেশে স্বাভাবিকের কাছাকাছি বৃষ্টিপাত হতে পারে। তবে এর মধ্যেই বঙ্গোপসাগরে এক থেকে দুটি মৌসুমি লঘুচাপ সৃষ্টি, কয়েক দফা বজ্রঝড়, এক থেকে দুটি তাপপ্রবাহ এবং ভারী বৃষ্টিতে দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পার্বত্য এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। এ মাসে প্রধান নদ-নদীর পানিও সামগ্রিকভাবে বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ও বিশেষজ্ঞ কমিটির চেয়ারম্যান মো. আজিজুর রহমানের সই করা আগস্ট মাসের দীর্ঘমেয়াদি আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হতে যাওয়া এক থেকে দুটি লঘুচাপের মধ্যে অন্তত একটি মৌসুমি নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে।
এ মাসে সারাদেশে প্রায় ৫ থেকে ৬ দিন হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বজ্রঝড় হতে পারে। পাশাপাশি এক থেকে দুটি মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগস্টে দেশের দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি থাকতে পারে।
মৃদু তাপপ্রবাহ বলতে ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং মাঝারি তাপপ্রবাহ বলতে ৩৮ থেকে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাকে বোঝানো হয়েছে।
ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পার্বত্য এলাকায় কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। একই সময়ে দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোর পানির সমতলও বাড়তে পারে।
আগস্ট মাসে দৈনিক গড় বাষ্পীভবন ২ দশমিক ৫ থেকে ৪ দশমিক ৫ মিলিমিটার হতে পারে। গড় উজ্জ্বল সূর্যকিরণকাল নিয়ে পূর্বাভাসে ৫ দশমিক ৫ থেকে ৬ দশমিক ৫ ঘণ্টার কথা বলা হয়েছে।
এদিকে মাসের শুরুতেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির প্রবণতা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের ৭ আগস্ট সকাল ৯টা থেকে ৮ আগস্ট সকাল ৯টা পর্যন্ত পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণও হতে পারে।
একই সঙ্গে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়া পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ রাজস্থান, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি অংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। বর্তমানে বাংলাদেশের ওপর মৌসুমি বায়ু মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে তা মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।
শুক্রবার সকালে ঢাকায় দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হচ্ছিল। সকাল ৬টায় রাজধানীতে বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ।
জুলাইয়ে স্বাভাবিকের চেয়ে ৩৫.৬ শতাংশ বেশি বৃষ্টি
আবহাওয়া অধিদপ্তরের জুলাই মাসের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত মাসে সারাদেশে স্বাভাবিকের তুলনায় ৩৫ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে স্বাভাবিকের চেয়ে ৫৯ শতাংশ এবং সিলেটে ৩৭ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে। তবে ময়মনসিংহ বিভাগে স্বাভাবিকের তুলনায় বৃষ্টিপাত ০ দশমিক ০৫ শতাংশ কম ছিল।
জুলাইয়ে বঙ্গোপসাগরে তিনটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়। এর মধ্যে দুটি মৌসুমি নিম্নচাপে রূপ নেয়। ওই মাসে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয় রাজশাহীতে, ৪ জুলাই। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয় সিলেটে, ২১ ও ২২ জুলাই।
এ ছাড়া ৮ জুলাই চট্টগ্রামে দেশের সর্বোচ্চ দৈনিক বৃষ্টিপাত ৩২৯ মিলিমিটার রেকর্ড করা হয়েছে।
শুক্রবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল রংপুর বিভাগের তেঁতুলিয়ায়, ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শনিবার সকাল ৬টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ঢাকা বিভাগের নারায়ণগঞ্জে, ২২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।











