নিজস্ব প্রতিবেদক:
আজ ৩ নভেম্বর, জেলহত্যা দিবস। জাতির ইতিহাসে এক কলঙ্কিত ও বেদনাবিধুর দিন। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর দিবাগত রাতে পুরান ঢাকার তৎকালীন কেন্দ্রীয় কারাগারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম চার দিকপাল জাতীয় নেতাকে।
নিহত এই জাতীয় চার নেতা হলেন মুক্তিযুদ্ধকালীন মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, মন্ত্রিসভার সদস্য ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামান।
জাতীয় চার নেতাকে ঠান্ডা মাথায় হত্যার ঘটনায় ১৯৭৫ সালের ৪ নভেম্বর তৎকালীন কারা উপমহাপরিদর্শক কাজী আবদুল আউয়াল লালবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। চাঞ্চল্যকর এই মামলার তদন্ত কার্যক্রম দীর্ঘ ২১ বছর ধরে সম্পূর্ণ স্থগিত ছিল। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালের জুনে পুনরায় মামলার কার্যক্রম শুরু হয় এবং দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় ২৯ বছর পর ২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালত এই মামলার বহুল কাঙ্ক্ষিত রায় ঘোষণা করেন।
আদালতের দেওয়া সেই রায়ে আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তবে বিচার সম্পন্ন হলেও সাজাপ্রাপ্ত এই ১১ আসামির মধ্যে ১০ জন আসামিই এখনও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। এর মধ্যে কেবল একজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা সম্ভব হয়েছে, যিনি হলেন ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আবদুল মাজেদ।
জেলহত্যা দিবসের এই শোকাবহ ও তাৎপর্যপূর্ণ দিনে জাতি গভীর শ্রদ্ধা ও বেদনার সঙ্গে স্মরণ করছে সেই চার মহান নেতাকে, যারা স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ও রাষ্ট্রগঠনে নেতৃত্বদান থেকে শুরু করে প্রতিটি পদক্ষেপে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন।











