আটলান্টিকে রুশ তেলবাহী ট্যাঙ্কারজব্দ করল ফরাসি নৌবাহিনী

অনলাইন ডেস্ক:

ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে রাশিয়ার ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে এবার আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে ফ্রান্স। আটলান্টিক মহাসাগরে রাশিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নিষেধাজ্ঞাভুক্ত একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার জব্দ করেছে ফরাসি নৌবাহিনী। ‘টাগোর’ নামের জাহাজটি রুশ তেল পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় মস্কো ও প্যারিসের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

 

সোমবার (১ জুন) ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে জানান, রোববার আন্তর্জাতিক জলসীমায় যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি মিত্র দেশের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে ট্যাঙ্কারটি আটক করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাওয়া, সমুদ্র আইন লঙ্ঘন করা এবং ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধের অর্থায়ন করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

 

সিএনএন ও দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ট্যাঙ্কারটি রাশিয়ার উত্তরাঞ্চলের একটি বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। ফরাসি কর্তৃপক্ষের দাবি, জাহাজটি ভুয়া পতাকা ব্যবহার করে চলাচল করছিল। অভিযানের সময় এটি আটলান্টিকে ব্রিটানির পশ্চিমে প্রায় ৪০০ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থান করছিল।

 

ফরাসি সামুদ্রিক প্রশাসন জানিয়েছে, জাহাজটির নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয় নিয়ে সন্দেহ দেখা দেওয়ায় সেটিতে তল্লাশি চালানো হয়। পরে নথিপত্র পরীক্ষা করে পতাকা ব্যবহারে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার পর আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় জাহাজটিকে ফরাসি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়। জাহাজটিতে ২৩ জন নাবিক ছিলেন এবং পরবর্তী তদন্তের জন্য সেটিকে নিরাপদ নোঙরস্থলের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

 

এদিকে ফ্রান্সের এই পদক্ষেপকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছে রাশিয়া। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, “আমরা এই কর্মকাণ্ডকে অবৈধ বলে মনে করি। এটি আন্তর্জাতিক জলদস্যুতার কাছাকাছি একটি কাজ।” তিনি দাবি করেন, ফ্রান্সের এই অভিযান আন্তর্জাতিক আইনের পূর্ণ অনুসরণে হয়েছে, এমন বক্তব্যের সঙ্গে মস্কো একমত নয়।

 

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাস জানিয়েছে, ট্যাঙ্কারটির অধিনায়ক একজন রুশ নাগরিক হতে পারেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে প্যারিসে রুশ দূতাবাস ইতোমধ্যে ফরাসি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল রপ্তানি অব্যাহত রাখতে রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরে তথাকথিত ‘ছায়া নৌবহর’ ব্যবহার করছে। এসব জাহাজ প্রায়ই বিভিন্ন দেশের পতাকা ব্যবহার করে বা নিবন্ধন পরিবর্তন করে নিজেদের পরিচয় আড়াল করার চেষ্টা করে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, এমন প্রায় ৬০০ জাহাজ বর্তমানে নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে।

 

ফ্রান্স এর আগেও রাশিয়ার এই নৌবহরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্দেহে একাধিক জাহাজ আটক করেছিল। মার্চ মাসে ভূমধ্যসাগরে একটি ট্যাঙ্কার জব্দ করা হয়। জানুয়ারিতেও আরেকটি জাহাজের বিরুদ্ধে একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। পশ্চিমা দেশগুলো বলছে, এসব জাহাজ শুধু নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গই করছে না, বরং সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও পরিবেশের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করছে।

 

রয়টার্স ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধের অর্থায়ন বন্ধে রাশিয়ার তেল রপ্তানির ওপর চাপ বাড়ানোর কৌশলের অংশ হিসেবেই এমন অভিযান জোরদার করছে ইউরোপীয় দেশগুলো। তবে মস্কো এটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে।

 

সূত্র: সিএনএন, দ্য গার্ডিয়ান