ঈদযাত্রায় পদ্মা সেতুতে যানজট, টোল প্লাজায় বাড়তি চাপ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশদ্বার পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে। কর্মজীবী মানুষ ছুটির সুযোগ নিয়ে ভোর থেকেই এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে পদ্মা সেতুর দিকে ছুটছেন, ফলে মাওয়া টোল প্লাজায় সৃষ্টি হয়েছে যানবাহনের দীর্ঘ সারি।

শুক্রবার থেকে ঈদের ছুটি শুরু হওয়ায় সকাল থেকেই টোল প্লাজার বিভিন্ন বুথে বাড়তি চাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেলের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। টোল প্লাজার দায়িত্বপ্রাপ্তরা জানান, সাতটি বুথ চালু থাকলেও মোটরসাইকেলের প্রবাহ সামাল দিতে সকালেই আরও দুটি অস্থায়ী বুথ স্থাপন করা হয়েছে।

পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, যান চলাচল নির্বিঘ্ন করতে সার্বক্ষণিক নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেলের জন্য পৃথক বুথের সংখ্যা বাড়ানোর পরও অতিরিক্ত চাপের কারণে টোল প্লাজায় দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। এর ফলে প্রায় দুই কিলোমিটার পর্যন্ত যানজট লেগে গেছে।

মাওয়া ফাঁড়ির ট্রাফিক ইন্সপেক্টর জিয়াউল ইসলাম জানান, “ভোর থেকেই এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে গাড়ির চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার কারণে টোল প্লাজায় অতিরিক্ত চাপের সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মোটরসাইকেল বুথের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।”

সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার পদ্মা সেতু দিয়ে ২৭,৬৮৩টি যানবাহন পারাপার হয়েছে, যার ফলে টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৭ লাখ টাকা। শুক্রবার সকাল থেকে যান চলাচল আরও বেড়ে গেছে। মোটরসাইকেল এবং অন্যান্য যানবাহনের চাপ সামাল দিতে তিনটি মোটরসাইকেল বুথসহ মোট নয়টি লেন ব্যবহার করা হচ্ছে।

নিরাপত্তা এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। পদ্মা সেতু উত্তর থানার ওসি জাকির হোসেন জানান, “হাইওয়ে পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশ পৃথক দল মোতায়েন করা হয়েছে, স্পিড গান ব্যবহার করে অতিরিক্ত গতির যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।”

মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনিছুর রহমান জানান, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে চারশ’ পুলিশ সদস্য, সেনাবাহিনী এবং আনসার সদস্যরা সম্মিলিতভাবে কাজ করছেন।

যাত্রীদের মতে, পদ্মা সেতুর কারণে দক্ষিণাঞ্চলে যাতায়াত এখন অনেক সহজ হয়েছে। তবে, টোল আদায়ের গতি আরও বাড়ানো গেলে যানজট কমে যাত্রীদের অপেক্ষার সময়ও কমবে।