নিজস্ব প্রতিবেদক:
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) পুনর্গঠনবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে টানা পাঁচ দিন ধরে কলমবিরতি পালন করছেন এনবিআর কর্মকর্তারা। এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের ডাকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির প্রভাব পড়েছে জাতীয় রাজস্ব আদায়ে—যা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অর্থনীতিবিদ ও ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, “এনবিআর কর্মকর্তাদের কর্মবিরতির কারণে রাজস্ব আদায়ে বড় ধাক্কা লাগছে। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের এই ধরনের কর্মসূচিতে যাওয়া উচিত হয়নি।”
তিনি বলেন, “এই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ নেই।”
সরকার গত ১৩ মে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে এনবিআর পুনর্গঠন করে দুটি নতুন সংস্থা—‘রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ’ ও ‘রাজস্ব নীতি বিভাগ’—গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়। সরকারের মতে, এ পদক্ষেপে রাজস্ব সংগ্রহ ও নীতিনির্ধারণে দক্ষতা বাড়বে। তবে এনবিআর কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই হঠাৎ সিদ্ধান্তে তাদের দায়িত্ব ও চাকরির নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে।
এর প্রতিবাদেই কর্মকর্তারা কলমবিরতি শুরু করেন, যার ফলে আয়কর রিটার্ন, কাস্টমস ছাড়পত্র এবং ভ্যাট আদায়ে দেরি হচ্ছে। এতে রাজস্ব আদায়ের চাপ বেড়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৪–২৫ অর্থবছরের প্রথমার্ধে এনবিআর গত বছরের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ কম রাজস্ব আদায় করেছে—প্রায় ৫৭ হাজার ৭২৪ কোটি টাকা ঘাটতি। মার্চ পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৬৫ হাজার ৬৬৫ কোটি টাকা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা, আমদানির হ্রাস ও কাঠামোগত দুর্বলতার সঙ্গে এই কর্মবিরতিও রাজস্ব আদায় ব্যাহত করছে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) পূর্বাভাস দিয়েছে, চলতি অর্থবছর শেষে ঘাটতি ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় অর্থ মন্ত্রণালয় এনবিআর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। পাশাপাশি সরকার বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে জরুরি রাজস্ব কার্যক্রম চালু রাখার বিষয়েও ভাবছে।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনবিআরের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, “কর্মবিরতির ক্ষতি স্পষ্ট। তবে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান এলে ক্ষতি আংশিকভাবে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।”
বিশ্লেষকদের মতে, রাজস্ব ব্যবস্থায় আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং নতুন কাঠামোর সফল বাস্তবায়নের জন্য দ্রুত সংকট সমাধান এখন সময়ের দাবি।











