কুড়িগ্রামে পাঁচ বছর ধরে সেতুহীন ২০ গ্রামের মানুষ

জেলা প্রতিনিধি :

কুড়িগ্রামের উলিপুরে ২০১৯ সালের বন্যায় ভেঙে যাওয়া দুটি সেতু এখনও পুনর্নির্মাণ করা হয়নি। ফলে তিনটি ইউনিয়নের অন্তত ২০ গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ দীর্ঘদিন ধরে চরম ভোগান্তির মধ্যে রয়েছেন। সেতুর অভাবে এলাকার প্রধান পাকা সড়কটিও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে, যেখানে যানবাহন তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটেও চলাচল করা কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে।

বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে পারছে না এবং অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত পূর্ব পাড়ের মানুষ কার্যত দুই উপজেলা থেকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা যায়, কুড়িগ্রাম-চিলমারী সড়কের চুনিয়ার পাড় থেকে উলিপুর আজমের মোড় পর্যন্ত ৬.৫ কিলোমিটার সড়ক ও দুটি সেতু ২০১৫ সালে ৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়। কিন্তু ২০১৯ সালের ভয়াবহ বন্যায় তবকপুর ইউনিয়নের আমতলী সেতু ও চুনিয়ার পাড় সেতুটি দেবে গিয়ে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একসময় এ সড়ক দিয়ে রিকশা, অটোরিকশা, ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন চলাচল করত, যা দুই উপজেলার মধ্যে সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল। কিন্তু সেতু ভেঙে যাওয়ার পর থেকে এলাকাবাসী বাধ্য হয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেন, যা অল্প কিছুদিন পরেই ভেঙে যায়। ফলে এখন মানুষজন শুকনো মৌসুমে জমির আইল দিয়ে হাঁটতে পারলেও বর্ষায় চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

স্থানীয় চেয়ারম্যান ও জনপ্রতিনিধিরা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানালেও এখনও সেতু পুনর্নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। উপজেলা প্রকৌশলী প্রদীপ কুমার জানান, আমতলী ও চুনিয়ার পাড় সেতু দুটি পুনঃনির্মাণের প্রস্তাব প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে কবে নাগাদ কাজ শুরু হবে, তা অনিশ্চিত।

এ অবস্থায় এলাকাবাসী দ্রুত সেতু পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটে।