গণতন্ত্র ও সংস্কৃতির পুনরুজ্জীবনে সম্মিলিত উদ্যোগ দরকার: আমীর খসরু

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, সাংবিধানিক অধিকার ফিরিয়ে আনা এবং জাতীয় সংস্কৃতির পুনরুজ্জীবনে দলমত নির্বিশেষে সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর জোর দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “গণতন্ত্রহীন সময়গুলোতে মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা বেড়ে যায়। কিন্তু মিডিয়া সরকারকে সরাসরি জবাবদিহিতে বাধ্য না করলেও, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে।”

তিনি বলেন, “জনগণের সাংবিধানিক অধিকার, গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও স্বাধীন মিডিয়া ফিরে পেতে হলে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। সুষ্ঠু নির্বাচনই পারে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে।”

এর আগে, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আরেক অনুষ্ঠানে তিনি জানান, বিএনপি ‘ক্রিয়েটিভ ইন্ডাস্ট্রি’ নামে একটি নতুন সাংস্কৃতিক প্রকল্প হাতে নিচ্ছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে বাউল, পল্লীগীতি, লোকসংগীত ও গ্রামীণ শিল্প-ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করে তা অর্থনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আমীর খসরু বলেন, “আমাদের লোকজ সংস্কৃতি শুধু ঐতিহ্যের অংশ নয়, এটি আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতেও ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু আমরা কখনো এটিকে সেভাবে কাজে লাগাইনি।”

তিনি নজরুলকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক চেতনার কেন্দ্রস্থলে উল্লেখ করে বলেন, “আমরা নজরুলের সাহিত্য-দর্শনকে শিক্ষাব্যবস্থা ও সংস্কৃতিতে যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে পারিনি—এটি জাতি হিসেবে আমাদের ব্যর্থতা।”

আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরী, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, সাংবাদিক মোস্তফা কামাল মজুমদার, নাট্যকার বাবুল আহমেদসহ অনেকে।

সবশেষে আমীর খসরু বলেন, “বাংলাদেশ আজ এক পরিবর্তনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। এই পরিবর্তনের পথে মিডিয়া, জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মিলিত ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”