নিজস্ব প্রতিবেদক:
দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচন দিয়ে জনগণের হাতে ক্ষমতা তুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, “দেশে যে অশান্তি সৃষ্টি হয়েছে, নির্বাচন দিলে তা আর থাকবে না। আমরা লড়াই করে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চাই।”
সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার ‘তিস্তা বাঁচাও অবস্থান কর্মসূচির’ জনতার সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
ফখরুল বলেন, “বাংলাদেশের আগামী দিনের কান্ডারি তারেক রহমান গণতান্ত্রিক সরকারের জন্য মানুষকে সংগঠিত করছেন। আমরা নির্বাচনের মাধ্যমে আমাদের জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করতে চাই—যারা সংসদে আমাদের কথা বলবে।”
তিস্তা মহাপরিকল্পনার বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, “আপনি নিরপেক্ষ, কিন্তু এ ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ থাকলে চলবে না। আপনাকে উদ্যোগ নিতে হবে। আমরা আমাদের ন্যায্য হিস্যা বুঝে নিতে চাই। বন্ধুত্ব থাকবে, তবে তিস্তার ন্যায্য হিস্যার ক্ষেত্রে কোনো আপস নেই।”
তিস্তা বাঁচাতে জনতার ঢল
‘জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাই’ স্লোগানে ১২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ তিস্তা নদীর ১১টি পয়েন্টে একযোগে ৪৮ ঘণ্টার অবস্থান কর্মসূচিতে পাঁচ জেলার কয়েক লাখ মানুষ অংশ নেন।
সোমবার সকাল থেকেই তিস্তা রেলসেতু ও সড়ক সেতুর মধ্যস্থলে নারী-পুরুষ দলে দলে এসে অবস্থান নেন। ১১টি পয়েন্টে তাবু গেঁড়ে হাজারো মানুষ রাতযাপন করেন। বিশাল প্যান্ডেল ও শতাধিক তাবুর মাধ্যমে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। দুপুর গড়াতেই জনসমুদ্রে পরিণত হয় তিস্তা নদীর পাড়।
অবস্থান কর্মসূচি সফল করতে নীলফামারী, রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার ১২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ নদী পাড়ের গুরুত্বপূর্ণ ১১টি স্থানে মঞ্চ তৈরি করা হয়। কর্মসূচির শেষদিন ১৮ ফেব্রুয়ারি দিনভর তিস্তা পাড়ের মানুষের সুখ-দুঃখের ওপর প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী, ভাওয়াইয়া গানের আসর, ঘুড়ি উৎসবসহ নানা গ্রামীণ খেলাধুলার আয়োজন রাখা হয়েছে।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি
বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, কেন্দ্রীয় ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, জাতীয় পার্টি (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার এবং বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সংগীতশিল্পী বেবী নাজনীন বক্তব্য দেন।
এছাড়াও সমাবেশের বিভিন্ন স্থানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ এবং গণসংহতি আন্দোলনের সভাপতি জুনায়েদ সাকি।











