নিজস্ব প্রতিবেদক:
আগামী দিনগুলোতে গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দেশে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ বাড়তে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট সূত্র। অর্থ সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহে বাধা সৃষ্টি হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যেতে পারে, যার ফলে তীব্র হতে পারে লোডশেডিং। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং চলতি এপ্রিলে একাধিক তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে গরমের তীব্রতা বাড়তে থাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহের সমস্যা আরও প্রকট হতে পারে।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত বছর এপ্রিল মাসে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল এবং এবারও একই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। গত মঙ্গলবার ১১ জেলায় মৃদু তাপপ্রবাহ ছিল এবং পরদিন রাজশাহী, দিনাজপুর, সৈয়দপুর ও চুয়াডাঙ্গা জেলা পর্যন্ত তাপপ্রবাহ ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, চলতি এপ্রিল মাসে মাঝারি থেকে তীব্র তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে।
বর্তমানে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৭ হাজার ১১৫ মেগাওয়াট। তবে গ্রীষ্মের সময় বিদ্যুতের চাহিদা ১৮ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যেতে পারে, যার ফলে দেড় হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং হতে পারে। যদি জ্বালানি সরবরাহে আরও সমস্যা সৃষ্টি হয়, তাহলে এটি ৩ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি যেমন ফার্নেস অয়েল, ডিজেল, কয়লা ও গ্যাসের সরবরাহে সমস্যা সৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে গ্যাসের চাহিদা প্রতিদিন ১৫০ কোটি ঘনফুট, কয়লার চাহিদা ৪০ হাজার টন, এবং ফার্নেস অয়েল ও ডিজেলের চাহিদা যথাক্রমে ১ লাখ টন ও ১৫-১৬ হাজার টন। রমজানে গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল, তবে এখন জ্বালানি সংকটের কারণে চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
বিদ্যুৎ খাতে বকেয়া বিলও সমস্যার বাড়িয়ে দিচ্ছে। বর্তমানে বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোর ৫০ হাজার কোটি টাকার বেশি পাওনা রয়েছে এবং এই বকেয়া পরিশোধ না হলে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে চলমান বিল পরিশোধের জন্য জুন পর্যন্ত ১৪ হাজার ৩০ কোটি টাকা প্রয়োজন। এছাড়া, এলএনজি ও জ্বালানি তেল আমদানি পরিশোধের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি লাগবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকার যদি দ্রুত এসব বিল পরিশোধ করতে না পারে এবং প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ না হয়, তবে গরমের সময় লোডশেডিং আরও তীব্র হতে পারে, যা দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ জনগণের জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।










