অনলাইন ডেস্ক:
নতুন বছরের প্রথম দিনেই ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি হামলায় অন্তত ১২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বুধবার (২ জানুয়ারি) এই হামলার ঘটনা ঘটে। তিনটি পৃথক হামলায় নিহতদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উত্তর গাজার জাবালিয়া এলাকা, যেখানে একাধিক হামলা চালানো হয়।
ইসরাইলি বাহিনীর প্রথম হামলা ঘটে জাবালিয়ার একটি বাড়িতে, যেখানে অন্তত সাতজন নিহত হন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, নিহতদের মধ্যে এক নারী ও চারটি শিশু রয়েছে। গত ১৫ মাস ধরে চলমান গাজা যুদ্ধের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা হিসেবে পরিচিত জাবালিয়া, যেখানে অক্টোবরের শুরু থেকেই ব্যাপক সামরিক অভিযান চলছে। ইসরাইলি বাহিনী দাবি করেছে, তারা হামাস যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে এই হামলা চালাচ্ছে।
একই দিন, মধ্য গাজার বুরেইজ শরণার্থী শিবিরে আরেকটি হামলায় এক নারী ও একটি শিশু নিহত হন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। শিবিরের এক ফিলিস্তিনি নাগরিক বলেন, “আপনারা কী নতুন বছর উদযাপন করছেন? উপভোগ করুন, যখন আমরা হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছি। গত দেড় বছর ধরে আমাদের ওপর দিয়ে এই হত্যাকাণ্ড চালানো হচ্ছে।”
তৃতীয় হামলাটি ঘটে খান ইউনিসে, যেখানে অন্তত তিন ফিলিস্তিনি নিহত হন। তাদের মরদেহ নাসের ও ইউরোপীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস একটি বড় আক্রমণ চালিয়ে ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলে এক হাজার ২০০ অবৈধ বসতিস্থাপনকারী ইসরাইলিকে হত্যা করেছিল এবং আরও ২৫০ জনকে অপহরণ করেছিল। এখনও গাজায় বন্দি প্রায় ১০০ ইসরাইলি নাগরিক, এবং তিনজন নিহত হয়েছেন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ইসরাইলি হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৫ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের অর্ধেকের বেশি নারী ও শিশু।











