চট্টগ্রাম বন্দরে জাল পত্রের মাধ্যমে ৫০ কোটি টাকা ফাঁকির চেষ্টা

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের একটি জাল পত্র ব্যবহার করে চট্টগ্রাম বন্দরের প্রায় ৫০ কোটি টাকার স্টোর রেন্ট ফাঁকি দেওয়ার অপচেষ্টা করেছে বসুন্ধরা মাল্টি স্টিল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি গত ১২ মে তাদের আমদানিকৃত মালামালের স্টোর রেন্ট মওকুফের নামে একটি ভুয়া পত্র চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বরাবর পাঠায়। বিষয়টি যাচাই করে বন্দর কর্তৃপক্ষ জালিয়াতির প্রমাণ পেলে পুরো ঘটনা জানাজানি হয় এবং শহরজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব ওমর ফারুক স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পত্রটি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব নজরুল ইসলামের স্বাক্ষরযুক্ত দেখানো হলেও তার ভাষা ও বিষয়বস্তু ছিল অসঙ্গতিপূর্ণ। সন্দেহ হলে পত্রটির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়। ১৪ মে মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করে, তারা এ ধরনের কোনো পত্র ইস্যু করেনি। এরপর আরও তদন্ত করে দেখা যায়, স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে এবং পত্রের ভাষাও জালিয়াতির প্রমাণ বহন করে।

এই ঘটনায় মূল জালিয়াতকে আটক করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং বন্দর থানায় জালিয়াতির মামলা রুজু হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকেও স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, কোনো ধরনের স্টোর রেন্ট মওকুফ অনুমোদন দেওয়া হয়নি।

বসুন্ধরা মাল্টি স্টিল ২০২৪ সালের জুন থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ২০৪টি টিইইউ কনটেইনারে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি করে, কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কনটেইনারগুলো ডেলিভারি নেয়নি। ফলে চলতি মাসের ১৫ মে পর্যন্ত তাদের নামে বকেয়া স্টোর রেন্ট দাঁড়ায় প্রায় ৭২ কোটি টাকা। অথচ জাল পত্র দেখিয়ে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৫০ কোটি টাকা মওকুফ করানোর চেষ্টা চালায়।

ঘটনার পর চট্টগ্রাম শহরের ব্যবসায়ী মহলে ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। কেউ কেউ অভিযোগ করে বলেন, বসুন্ধরা মাল্টি স্টিল এর আগেও এমন ধরনের জালিয়াতিতে জড়িত ছিল এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করলে অতীত কেলেঙ্কারিও সামনে আসবে। বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীরা এই ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে বলেন, এ ধরনের প্রতারণা দেশের রাজস্ব আদায়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।