জেলা প্রতিনিধি :
চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালত রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেফতার বাংলাদেশের সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও পুণ্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন। বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) শুনানি শেষে আদালত এই সিদ্ধান্ত দেয়।
চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর মো. মফিজুল হক ভূঁইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আদালত জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে। রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরুদ্ধে আপত্তি জানায়, কারণ এটি একটি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা, যার সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।
আজ জামিন শুনানিতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের নেতা অ্যাডভোকেট অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে ১১ জন আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন। তবে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে আদালতে হাজির করা হয়নি।
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, “এই মামলার শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, এটি একটি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা এবং এর সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।” তিনি আরো বলেন, “আদালত জামিন নামঞ্জুর করেছেন, তবে কেউ উচ্চ আদালতে আবেদন করতে পারবেন।”
অ্যাডভোকেট অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা আদালতকে জানিয়েছি, জাতীয় পতাকার অবমাননা হয়নি।” তিনি জানান, “এই আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।”
গত ৩১ অক্টোবর চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালি থানায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা দায়ের হয়। ২৫ নভেম্বর শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। পরদিন তাকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশে হস্তান্তর করা হয় এবং কোতোয়ালি থানায় দায়ের হওয়া রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। জামিন আবেদন করা হলেও মহানগর হাকিম আদালত তা নামঞ্জুর করে।
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন নামঞ্জুর হওয়ায় তার সমর্থকরা পুলিশ সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং সাইফুল ইসলাম আলিফ নামে এক আইনজীবীকে কুপিয়ে হত্যা করে।
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের দ্বিতীয় জামিন শুনানির দিন ৩ ডিসেম্বর নির্ধারিত ছিল, তবে ওইদিন কোনো আইনজীবী উপস্থিত না থাকায় আদালত জামিন শুনানি ২ জানুয়ারি পুনঃনির্ধারণ করে।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) এ এ এম হুমায়ুন কবির জানান, আজ আদালতপাড়ায় পুলিশ, বিজিবি এবং সেনা সদস্য মোতায়েন ছিল, তবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।










