নিজস্ব প্রতিবেদক:
বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশের জ্বালানির বকেয়া পরিশোধের চাপ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে আমেরিকান কোম্পানি শেভরন ও কাতারের কাতার গ্যাস পাওনা দ্রুত পরিশোধের তাগিদ দিয়েছে। কাতার গ্যাসের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির বিপরীতে যে পরিমাণ অর্থ বকেয়া রয়েছে, তা জরুরি ভিত্তিতে পরিশোধ করতে বলা হয়েছে।
পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, শেভরনের কাছে বাংলাদেশের মোট ২২০ মিলিয়ন ডলার বকেয়া রয়েছে। এর মধ্যে ১৭৫ মিলিয়ন ডলার গ্যাসের মূল মূল্য এবং বাকি ৪৫ মিলিয়ন ডলার ভ্যাট ও সুদ বাবদ জমা হয়েছে। শেভরন দ্রুততম সময়ের মধ্যে অন্তত ৭৫ মিলিয়ন ডলার পরিশোধের দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে, কাতার গ্যাসের পাওনা ১৫০ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা দ্রুত পরিশোধ করতে বলা হয়েছে।
কাতার গ্যাসের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় এলএনজি আমদানি করা হয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বকেয়া পরিশোধ না হলে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ কারণে কাতারের পাওনা পরিশোধের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
শেভরন বাংলাদেশে জাতীয় গ্রিডের দৈনিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় ৬০ শতাংশ নিশ্চিত করে। প্রতিষ্ঠানটি বিবিয়ানা, জালালাবাদ ও মৌলভীবাজার গ্যাসক্ষেত্র পরিচালনা করছে, যার মধ্যে বিবিয়ানায় সবচেয়ে বেশি গ্যাস উত্তোলন হয়। কয়েক মাস ধরে শেভরনের বিল বকেয়া থাকায় কোম্পানিটি এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
শেভরনের পাওনা পরিশোধ নিয়ে আলোচনার জন্য কোম্পানির আন্তর্জাতিক শীর্ষ কর্মকর্তা ফ্রাঙ্ক ক্যাসুলো গত ডিসেম্বরে বাংলাদেশ সফর করেন এবং প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এদিকে, ২০১৮ সালের এপ্রিল থেকে বাংলাদেশ কাতার গ্যাসের কাছ থেকে কার্গো এলএনজি আমদানি করছে। চলতি অর্থবছরে ৪০ কার্গো এলএনজি সরবরাহের চুক্তি হয়েছে, যার অর্ধেক ইতোমধ্যে এসেছে। তবে বকেয়া অর্থ পরিশোধে দেরি হলে ভবিষ্যতে এলএনজি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, শেভরন ও কাতার গ্যাস বিল পরিশোধে তাগিদ দিয়ে চিঠি দিয়েছে। সরকার কিছু অর্থ পরিশোধের চেষ্টা করছে, তবে কাতারের পাওনা দ্রুত মেটানোর দিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।











