নিজস্ব প্রতিবেদক:
টোকিও সফরকালে জাপানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারপ্রধান ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। জাপানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “জাপান এশিয়ায় নেতৃত্ব দেবে এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের সহায়তায় একটি নতুন কাঠামো তৈরি করবে— এটাই আমার প্রত্যাশা।”
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, বাংলাদেশে তরুণ উদ্যোক্তাদের সহায়তার ক্ষেত্রে জাপান একটি মডেল হয়ে উঠতে পারে। জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে যতটা সম্ভব সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করার ইচ্ছার কথাও জানান তিনি।
তার ভাষায়, “সরকার পুরনো দমনমূলক কাঠামো, নীতিমালা ও বিচারব্যবস্থায় ফিরতে চায় না। বর্তমানে যেসব প্রতিষ্ঠান রয়েছে, সেগুলো মূল্যায়নের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ অংশ পরিবর্তন করা হবে।”
এ সময় তিনি জানান, পূর্বঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।
জাপানে কর্মী পাঠাতে প্রস্তুতি, ঢাকায় আসছে প্রশিক্ষণকেন্দ্র
একইসঙ্গে জানা গেছে, শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে এক লাখ কর্মী নিয়োগ দিতে চায় জাপান। এ লক্ষ্যে দেশটির রেস্তোরাঁ চেইন ওয়াতামি গ্রুপ ঢাকায় একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র চালু করতে যাচ্ছে, যা আগামী অক্টোবরেই চালু হওয়ার কথা।
জাপানি সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়া জানিয়েছে, এই প্রশিক্ষণকেন্দ্রে স্থানীয়দের কৃষিকাজ, গ্রাহকসেবা, কারখানা কার্যক্রম এবং খাবার সরবরাহে দক্ষ করে তোলা হবে। প্রতিবছর প্রায় ৩,০০০ বাংলাদেশিকে ‘বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী ভিসা’র আওতায় জাপানে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
ওয়াতামির প্রেসিডেন্ট মিকি ওয়াতানাবে বলেন, “রেস্তোরাঁ খাতে টিকে থাকার জন্য মানবসম্পদ সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা নিজেরাই কর্মী তৈরি করে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে চাই।”
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে জাপান খাদ্য পরিষেবাসহ ১১টি খাতে বিদেশি কর্মীদের জন্য ভিসার সুযোগ বাড়ায়, যার ফলে বিদেশিরা এখন দোকান ব্যবস্থাপনা, পরিবেশনাসহ নানা ক্ষেত্রে কাজ করতে পারছেন।










