অনলাইন ডেস্ক:
গত মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনার মূল বিষয় ছিল গাজার সাময়িক যুদ্ধবিরতি এবং ইরান। এই বৈঠকটি গাজায় ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত হামাসের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনার আগে অনুষ্ঠিত হয়।
ট্রাম্প বৈঠকের আগে জানিয়েছেন, তিনি ইসরায়েল এবং অন্যান্য দেশের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছেন, তবে এই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি। তিনি আরও স্বীকার করেন যে, গাজার যুদ্ধবিরতি অনিশ্চিত এবং সাংবাদিকদের বলেন, “আমার কাছে শান্তি বজায় থাকার কোনো নিশ্চয়তা নেই।”
নেতানিয়াহুর কার্যালয় গতকাল জানিয়েছে যে, ইসরায়েলি প্রতিনিধি দল দ্বিতীয় পর্যায়ের যুদ্ধবিরতি আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য কাতারে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলটি এই চুক্তি চালিয়ে যাওয়ার কৌশলগত পন্থা নিয়ে আলোচনা করবে, যা চুক্তির সফল বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।
যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপে হামাস ১৮ বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে এবং ইসরায়েল তাদের আক্রমণ বন্ধ করেছে, পাশাপাশি কয়েকশ ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে। তবে, পরিস্থিতি এখনও থমথমে রয়েছে এবং ইসরায়েল সরকারের চরম ডানপন্থী অংশীদাররা নেতানিয়াহুকে যুদ্ধ শুরুর জন্য আবারও চাপ দিচ্ছে।
এদিকে, ট্রাম্পও যুদ্ধবিরতি চুক্তি বজায় রাখতে নেতানিয়াহুর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারেন। যদিও তিনি ইসরায়েলের কট্টর সমর্থক, তবুও তিনি এই যুদ্ধবিরতিকে বৃহত্তর আঞ্চলিক কৌশল হিসেবে দেখছেন। ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহু উভয়ই লক্ষ্য করেছেন যে, ইসরায়েল এবং সৌদি আরবের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে এবং ইরানের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। সৌদি আরব বলেছে, গাজার যুদ্ধ শেষ হলে এবং গাজা ও পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের একটি বিশ্বাসযোগ্য পথ তৈরি হলে তবেই তারা ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে সম্মত হবে।
ইসরায়েলকে মার্কিন সমর্থন জোরদার করতে ট্রাম্প ইতিমধ্যে ২০০০ পাউন্ড বোমা সরবরাহ পুনরায় শুরু করেছেন। তিনি ফিলিস্তিনিদের গাজা থেকে মিশর ও জর্ডানের মতো প্রতিবেশী দেশে সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে, ইরানকে তার শীর্ষ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে রেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।











