অনলাইন ডেস্ক:
পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তি বৈঠক হলেও তা ইতিবাচক ফলাফল আসেনি। তবে আশঙ্কা করা হচ্ছে সমাঝোতার জন্য আবারও বসতে পারেন দুই দেশ।
এদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধে ওয়াশিংটন ২০ বছরের স্থগিতাদেশের প্রস্তাব দিলেও ইরান সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত সীমাবদ্ধতায় রাজি হওয়ার কথা জানায়।
মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দুই পক্ষ প্রস্তাব বিনিময় করলেও সময়সীমা নিয়ে বিস্তর ফারাক রয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণকে চুক্তির শর্ত হিসেবে দেখছে, আর ইরান স্বল্পমেয়াদি সমঝোতায় অনড়। বিশ্লেষকদের মতে, মাঝামাঝি সমাধান হিসেবে প্রায় ১২ বছরের একটি সময়সীমা নিয়ে সমঝোতার সুযোগ থাকতে পারে।
এক দশকেরও বেশি সময় পর সরাসরি এই বৈঠকটি দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। পারমাণবিক ইস্যুর পাশাপাশি আলোচনায় উঠে আসে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া, নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তিন ধাপে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। নিরাপত্তাজনিত কারণে মোবাইল ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকায় প্রতিনিধিদের বারবার বাইরে গিয়ে যোগাযোগ করতে হওয়ায় আলোচনায় বিঘ্ন ঘটে।
এক পর্যায়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করে বলেন, আলোচনার মাঝেই হামলার অভিজ্ঞতার কারণে বিশ্বাসের সংকট তৈরি হয়েছে। এর আগে জেনেভা বৈঠকের পরপরই ইরানে হামলার ঘটনা তেহরানের সন্দেহ আরও বাড়িয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্র জানায়, আলোচনা প্রায় ৮০ শতাংশ অগ্রসর হলেও শেষ মুহূর্তে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্য না হওয়ায় তা ভেঙে যায়। শুরুতে উত্তেজনা থাকলেও শেষ দিকে কিছুটা অগ্রগতি দেখা গেলেও তা চুক্তিতে রূপ নেয়নি।
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না-এই অবস্থান থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে আসেনি। তবে বৈঠক ব্যর্থ হলেও উভয় পক্ষই আলোচনার পথ খোলা রেখেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান নতুন করে যোগাযোগ করেছে এবং সমঝোতায় আগ্রহ দেখিয়েছে।











