ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই, জানালেন ইসি সচিব

নিজস্ব প্রতিবেদক:

আসন্ন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে এখন পর্যন্ত উদ্বেগের মতো কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই কথা জানান।

নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য নির্বাচন কমিশন ভবনে একটি বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে বলে জানান ইসি সচিব। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই সেল থেকে ভোটকেন্দ্রের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সামগ্রিক নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা সরাসরি তদারকি করা হবে।

তিনি আরও জানান যে, আগামীকাল সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে একটানা ভোটগ্রহণ চলবে। এই নির্বাচন পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে বিগত নির্বাচনগুলোর ধারাবাহিকতা বজায় রেখে একই ধরনের প্রশাসনিক ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনেও একই রূপ ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে শেরপুর ও বগুড়ার দুটি উপনির্বাচনেও এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনেও এই ব্যবস্থা কার্যকর করা হচ্ছে।

প্রধানত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ এবং ভোটকেন্দ্রের সার্বিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্যই এই ব্যবস্থা বলবৎ রাখা হয়েছে বলে জানান ইসি সচিব। তিনি বলেন, বিজিবি, এসআরপি ও পুলিশের সঙ্গে যথাযথ সমন্বয় সাধন করে এই মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালিত হবে। বিশেষ করে বিজিবি ও পুলিশের বডি ক্যামেরা এবং বিজিবির ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে কঠোর নজরদারি চালানো হবে। এই উন্নত সার্ভিলেন্স ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন কেন্দ্রগুলো থেকে মিনিট বাই মিনিট পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে।

ভোটের দিনের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সংবাদ পোর্টালে প্রকাশিত নানা খবর এবং তথ্যও গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। এসব তথ্য গভীরভাবে পর্যালোচনা করে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, কারণ প্রতিটি সংবাদ প্রতিবেদনের পেছনেই কিছু না কিছু মূল্যবান উপাত্ত থাকে যা কমিশনের কাজে সহায়ক হয়।

নির্বাচন সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ এবং সেগুলোর ভিত্তিতে চলমান আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব মন্তব্য করেন যে, প্রতিটি প্রকাশিত খবরেরই নিজস্ব একটি মূল্যায়ন রয়েছে। আগামীকালই স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যাবে কোন তথ্যটি সঠিক ছিল আর কোনটি ত্রুটিপূর্ণ ছিল, তাই সে পর্যন্ত সকলকে একটু ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করার আহ্বান জানান তিনি।

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সকল শ্রেণির ভোটাররা কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই নির্বিঘ্নে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন কি না, সাংবাদিকদের এমন সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের জবাবে আখতার আহমেদ দৃঢ়তার সঙ্গে জানান যে, ভোটারদের জন্য সেই অনুকূল পরিবেশ পুরোপুরি বজায় রয়েছে। এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার, জেলা প্রশাসক এবং রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার সঙ্গে তাঁর সরাসরি কথা হয়েছে এবং নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত উদ্বেগের মতো কোনো কারণ কমিশন পায়নি এবং ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও পাবে না বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য যে, গত গত ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে পরাজিত করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর এই নির্বাচিত হওয়ার ফলেই ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। এই শূন্য আসনে উপনির্বাচনের যাবতীয় আয়োজন সম্পন্ন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবারের এই জনগুরুত্বপূর্ণ ভোটে নির্ধারিত হবে এই আসনের নতুন সংসদ সদস্য কে হচ্ছেন।

ঘোষিত তফসিলে জানা যায়, এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১৫ হাজার ৮৫৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৭ হাজার ২১৯ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন মাত্র চারজন। এ ছাড়াও, পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য ইতোমধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন মোট ২৮৭ জন ভোটার, যার মধ্যে পুরুষ ২৪৯ জন এবং নারী ৩৮ জন ভোটার রয়েছেন।