নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশের চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার বিকাশে ঢাকা মেডিকেল কলেজের আট দশকের অবদান জাতির জন্য গর্বের বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সুস্থ, দক্ষ ও মানবিক জনগোষ্ঠী গড়ে তুলতে মানসম্মত চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা এবং আধুনিক স্বাস্থ্যসেবার কোনো বিকল্প নেই। এ লক্ষ্য সামনে রেখে সরকার স্বাস্থ্যখাতে দক্ষ জনবল তৈরিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৮০ বছর পূর্তি ও ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন বার্তায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।
শুভেচ্ছা বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “একটি জাতির অগ্রগতি শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়নের ওপর নির্ভর করে না, তা নির্ভর করে সুস্থ, দক্ষ ও মানবিক জনগোষ্ঠীর ওপর। আর সেই ভিত্তি নির্মাণে মানসম্মত চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা ও আধুনিক স্বাস্থ্যসেবার ভূমিকা অপরিসীম।” তিনি আরও বলেন, “দেশের চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার বিকাশে ঢাকা মেডিকেল কলেজ আট দশক ধরে যে অনন্য অবদান রেখে চলেছে, তা জাতীয় গর্বের বিষয়।”
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৪৬ সালের ১০ জুলাই প্রতিষ্ঠার পর থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ দেশের চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে প্রতিষ্ঠানটি অসংখ্য দক্ষ, মানবিক ও দেশপ্রেমিক চিকিৎসক গড়ে তুলেছে। তারা দেশে ও বিদেশে পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্ব এবং সেবার মাধ্যমে বাংলাদেশের মর্যাদা উজ্জ্বল করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, ২৪ এর ছাত্র জনতার অভ্যুত্থান, জাতীয় সংকট, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অ্যালামনাইদের ভূমিকা জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে।
স্বাস্থ্যখাতের পরিবর্তিত বাস্তবতার কথাও তুলে ধরেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, “বর্তমান বিশ্বে চিকিৎসাবিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্র দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, গবেষণাভিত্তিক জ্ঞানচর্চা এবং আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি স্বাস্থ্যখাতকে নতুন সম্ভাবনার দিকে নিয়ে যাচ্ছে।”
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ভবিষ্যতেও বিশ্বমানের চিকিৎসক, গবেষক ও স্বাস্থ্যনেতৃত্ব গড়ে তোলায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য গবেষণায় নিয়োজিত চিকিৎসকেরা দেশের স্বাস্থ্যখাতকে আরও সমৃদ্ধ করবেন।
বার্তার শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “৮০ বছরের গৌরবময় অভিজ্ঞতা এবং ৮১তম প্রতিষ্ঠাদিবসের প্রেরণাকে ধারণ করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ভবিষ্যতেও জ্ঞান, মানবিকতা, গবেষণা ও সেবার ক্ষেত্রে উৎকর্ষের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।” একই সঙ্গে তিনি দেশে ও বিদেশে প্রতিষ্ঠিত ঢাকা মেডিকেল কলেজ পরিবারের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও চিকিৎসকদের প্রতিষ্ঠান এবং জাতির কল্যাণে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।











