অনলাইন ডেস্ক:
তালেবান শাসিত আফগানিস্তানে তাদের জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোর চরম ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও, মধ্যপ্রাচ্যের ক্যাম্প থেকে আফগান শরণার্থীদের পাকিস্তান স্থানান্তরের একটি বিশাল প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নির্ভরযোগ্য সূত্রের খবর অনুযায়ী, আগামী সোমাবলীর মধ্যেই বিশেষ বিমানে করে এসব শরণার্থীদের পাকিস্তানে পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হয়ে যাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র সরকারের তরফ থেকে এই পরিকল্পনাটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জনসমক্ষে ঘোষণা করা হয়নি। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মানবাধিকার কর্মী এবং আটক থাকা শরণার্থীদের স্বজনরা, যারা জানিয়েছেন যে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই এই আফগান নাগরিকদের পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারের ‘ক্যাম্প আস সাইলিয়া’ নামের একটি শরণার্থী শিবিরে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা অসহায় মানুষদের ভাগ্য নিয়েই এই মারাত্মক অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের পক্ষ থেকে একাধিকবার সময়সীমা বাড়ানো হলেও, অবশেষে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এই শিবিরটি স্থায়ীভাবে খালি করার চূড়ান্ত পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন আফগান শরণার্থীদের আফ্রিকার দেশ কঙ্গোতে স্থানান্তরের কথাও ভেবেছিল, যেখানে ইতিপূর্বে ইবোলা ভাইরাসের মতো ভয়ংকর মহামারির প্রাদুর্ভাব ঘটেছিল।
শরণার্থীদের পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেওয়া হলে সেখান থেকে তালেবান জঙ্গিরা তাদের আফগানিস্তানে ধরে নিয়ে যেতে পারে—এমন আশঙ্কায় অত্যন্ত তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা। আফগানদের সহায়তায় নিয়োজিত সোচ্চার সংগঠন ‘আফগানইভাক’ সরকারের এই হঠকারী সিদ্ধান্তের তীব্র ও কড়া সমালোচনা করেছে। সংস্থাটির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন নির্বাচনের দিকে সবার দৃষ্টি নিবদ্ধ থাকার সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন অত্যন্ত গোপনে এসব আফগান নাগরিকদের পাকিস্তানে পাঠানোর সুদূরপ্রসারী ছক কষছে।
তারা আরও জোরালোভাবে জানিয়েছে যে, শরণার্থীদের বহনকারী বিমানগুলো ঠিক কোথায় গিয়ে অবতরণ করবে, তা বর্তমান সরকার ইচ্ছা করেই পুরোপুরি গোপন রাখছে। কারণ সেই নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছানোর পর এই অসহায় মানুষগুলোর জীবনে কতটা ঘোর অন্ধকার নেমে আসবে, সে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সবাই অত্যন্ত ভালোভাবেই অবগত রয়েছে। তবে অত্যন্ত লক্ষণীয় বিষয় হলো, এই স্পর্শকাতর ও গুরুতর ইস্যুতে এখন পর্যন্ত মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের চূড়ান্ত সরকারি বিবৃতি পাওয়া যায়নি।











