নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীসহ দেশের বাজারে টানা তিন সপ্তাহ ধরে সবজির দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। বাজারে এখন বেশিরভাগ সবজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকার ওপরে, কিছু সবজির দাম এমনকি ২০০ টাকাও ছাড়িয়ে গেছে।
শুক্রবার রাজধানীর মতিঝিল, শান্তিনগর, মালিবাগ, রামপুরা ও বাড্ডা এলাকার কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বাজারে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ক্রেতারা।
শান্তিনগর বাজারের ক্রেতা শামীমা আক্তার বলেন, “এখনো বেগুন ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এটা সাধারণ মানুষের ক্রয়সীমার বাইরে। এভাবে চলতে থাকলে খাবে কী মানুষ?”
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গোল বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১৮০-২২০ টাকা, লম্বা বেগুন ১৪০-১৬০ টাকা, পটল ৮০-১০০ টাকা, বরবটি ও কাকরোল ১০০-১২০ টাকা, টমেটো ১৬০-১৮০ টাকা, গাজর ১৪০-১৮০ টাকা, শসা ৮০-১০০ টাকা, ঝিঙা ও করলা ৮০-১২০ টাকা, শিম ২৪০-২৮০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
সবজির পাশাপাশি শাকের দামেও লেগেছে আগুন। আগে ১০ টাকায় বিক্রি হওয়া কলমি, হেলেঞ্চা ও পালং শাক এখন ১৫-২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লাউ ও কুমড়া শাকের মুঠা ৫০-৭০ টাকা পর্যন্ত।
সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে কাঁচামরিচের। বর্তমানে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকায়।
সবজি বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ কম থাকায় দাম বাড়ছে। উত্তর বাড্ডার ব্যবসায়ী আসলাম জানান, “এ সময় সবজির সরবরাহ এমনিতেই কম থাকে। এর ওপর পরিবহন ও অন্যান্য ঘাটে ঘাটে দিতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। এতে দাম বাড়ছে।”
এদিকে, পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমেছে, বর্তমানে কেজিপ্রতি ৬৫-৭০ টাকা। তবে রসুন ও মসুর ডালের দাম এখনো বেশি—রসুন ১২০-১৮০ টাকা, বড় মসুর ডাল ১৪০ ও ছোট দানা মসুর ১৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
প্রাণিজ প্রোটিনেও স্থিতিশীলতা নেই। ব্রয়লার মুরগি ১৭০-১৮০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩০০-৩২০ টাকা, দেশি মুরগি ৫৮০-৬৫০ টাকা। গরুর মাংস ৭৫০-৮০০ টাকা ও খাসির মাংস ৯০০-১১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারেও একই চিত্র। ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ২৮০০ টাকা পর্যন্ত, গলদা ও বাগদা চিংড়ির দাম ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত, আর রুই, কাতল, তেলাপিয়াসহ অন্যান্য মাছের দামেও তেমন কোনো হ্রাস নেই।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে সরবরাহ বাড়লে দাম কিছুটা কমতে পারে। তবে এর আগে খাদ্যদ্রব্যের উচ্চমূল্যের কারণে খাদ্য মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বাড়ছে।











