জেলা প্রতিনিধি :
চট্টগ্রামের ভয়াবহ জলাবদ্ধতা নিরসনে বহুল প্রতীক্ষিত বহদ্দারহাট-বারইপাড়া খাল খনন প্রকল্প বছরের পর বছর ধরে সংশোধনের কবলে পড়লেও এখনো আলোর মুখ দেখেনি। তৃতীয় দফায় ফের সংশোধন করা হয়েছে প্রকল্পটি, তবে এবার ব্যয় কিছুটা কমিয়ে আনা হয়েছে—১৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা।
সর্বশেষ সংশোধনের পর প্রকল্প ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৪৩ কোটি ২১ লাখ টাকা, যা দ্বিতীয় সংশোধনের তুলনায় কম। ২০১৪ সালে একনেক সভায় প্রথম অনুমোদন পাওয়ার সময় এ প্রকল্পের প্রস্তাবিত ব্যয় ছিল মাত্র ৩২৬ কোটি ৮৪ লাখ টাকা।
প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (সিসিসি), স্থানীয় সরকার বিভাগের তত্ত্বাবধানে। সময়সীমা বারবার পেছাতে পেছাতে বর্তমানে প্রকল্পটি শেষ করার সময় ধরা হয়েছে ২০২৬ সালের জুন।
প্রকল্পের মূল লক্ষ্য:
-
খাল খননের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা দূরীকরণ
-
দুই পাশে রাস্তা নির্মাণ ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন
-
যানজট কমানো এবং হাঁটার পথ তৈরি
-
নাগরিকদের জন্য বিনোদনমুখী পরিসর সৃষ্টি
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) ১৯৯৫ সালের ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যানে এই খালটির কথা থাকলেও দীর্ঘ ৩০ বছরেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। নগর পরিকল্পনার দুর্বলতা, সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়নের অভাব এবং জনসচেতনতার ঘাটতির কারণে চট্টগ্রামবাসী আজও বর্ষা মৌসুমে তীব্র জলাবদ্ধতার শিকার।
সর্বশেষ সংশোধনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন সত্ত্বেও ব্যয় কমানো সম্ভব হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:
-
খনন যন্ত্রপাতি রাখার জন্য মেইনটেন্যান্স ইয়ার্ড
-
দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ৫,৫০০ মিটার ওয়াকওয়ের পাশে রেলিং স্থাপন
-
খালের পাশের রাস্তায় টেকসই RCC সড়ক নির্মাণ যা ভারী যান চলাচল সহনীয়
২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি ৮৫ শতাংশ এবং ভৌত অগ্রগতি ৯৩.১৪ শতাংশ হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা মনে করছেন, প্রকল্পটি শেষ হলে চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা অনেকটাই হ্রাস পাবে এবং নগরবাসীর জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।











