অনলাইন ডেস্ক:
দক্ষিণ কোরিয়ার মুয়ান বিমানবন্দরের রানওয়েতে একটি বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২০ জনে দাঁড়িয়েছে। বিমানটিতে ১৮১ জন আরোহী ছিলেন, তবে উদ্ধারকর্মীরা এখন পর্যন্ত মাত্র দুজনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। এতে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রবিবার (২৯ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা ৩ মিনিটে এই দুর্ঘটনা ঘটে। রাজধানী সিউল থেকে প্রায় ২৯০ কিলোমিটার দক্ষিণে মুয়ান শহরের বিমানবন্দরে জেজু এয়ারের ওই ফ্লাইটটি অবতরণ করার চেষ্টা করছিল। অবতরণের সময় রানওয়ে থেকে পিছলে গিয়ে বিমানটি কংক্রিটের দেওয়ালে ধাক্কা মারে, যার ফলে এতে আগুন ধরে যায়।
জাতীয় অগ্নিনির্বাপন সংস্থা জানিয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য ৩২টি ফায়ার ট্রাক ও বেশ কয়েকটি হেলিকপ্টার ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে। তবে বিমানটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় উদ্ধারকর্মীরা এখনও ধ্বংসাবশেষের মধ্যে জীবিতদের খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত বিমানের লেজের অংশ ছাড়া অন্য কোনো শনাক্তযোগ্য অংশ পাওয়া যায়নি।
মুয়ান অগ্নিনির্বাপন সংস্থার প্রধান লি জিয়ং-হিয়ন এক টেলিভিশন ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, তদন্তে যান্ত্রিক ত্রুটি অথবা বিমানটি পাখির দ্বারা আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে সরকারি তদন্তকারীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার বিমান চলাচলের ইতিহাসে এটি অন্যতম ভয়াবহ দুর্ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। সর্বশেষ ১৯৯৭ সালে গুয়ামে কোরিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ২২৮ জন নিহত হয়েছিল, আর ২০২৪ সালের শেষ মুহূর্তে দেশটি এমন একটি বড় বিমান দুর্ঘটনার শিকার হলো।











