অনলাইন ডেস্ক:
বিশ্বের ১৮০টি দেশের মধ্যে দুর্নীতির ধারণা সূচক (সিপিআই) ২০২৪ অনুযায়ী বাংলাদেশ ১৪তম অবস্থানে রয়েছে। আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) এই সূচক প্রকাশ করেছে, যেখানে বাংলাদেশের স্কোর ২৩ পয়েন্ট, যা বিগত ১৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। ২০২৪ সালের এই রিপোর্টে বাংলাদেশের অবস্থান দুই ধাপ অবনতি হয়ে ১৫১তম এবং নি¤œক্রম অনুসারে ১৪তম হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টায় টিআইবি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ড. মো ইফেতারুজ্জামান বলেন, “বাংলাদেশের স্কোর ২৩, যা ২০১২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কম। এর ফলে দেশের অবস্থান ১৮০টি দেশের মধ্যে ১৫১তম এবং দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে আফগানিস্তানের পর বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয় সর্বনিম্ন।”
ড. ইফেতারুজ্জামান আরও বলেন, “বিগত ১৩ বছরে, সরকার দুর্নীতি দমনের কথা বললেও বাস্তবে দুর্নীতিকে প্রশ্রয় ও লালন করা হয়েছে। দুর্নীতির কারণে বাংলাদেশের অবস্থান ক্রমাগত অবনতি হয়েছে।” তিনি বলেন, “সরকারের দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম স্রেফ কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, এবং দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের রাষ্ট্রীয়ভাবে তোষণ করা হয়েছে।”
বাংলাদেশের সিপিআই স্কোর ২০১২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ২৫ থেকে ২৮ এর মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছিল। ২০১২ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত এই স্কোর কখনও ২৬, কখনও ২৫ ছিল। ২০২3 সালে স্কোর ২৪ এবং ২০২৪ সালে তা আরও এক পয়েন্ট অবনমিত হয়ে ২৩ হয়ে গেছে।
এ অঞ্চলের মধ্যে বাংলাদেশ ১৭ পয়েন্ট নিয়ে আফগানিস্তানের পর দ্বিতীয় সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের স্কোর বেশ উদ্বেগজনক।
১৯৯৫ সাল থেকে প্রতি বছর ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল সিপিআই সূচক প্রকাশ করে থাকে। ২০০১ সালে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ তালিকাভুক্ত হয়, এবং তখন সারা বিশ্ব থেকে ৯১টি দেশ ছিল তালিকায়। তবে সময়ের সাথে সাথে বাংলাদেশ এর স্কোর এবং অবস্থানে অবনতি হয়েছে, যা দেশের উন্নয়নশীল অবস্থার জন্য চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
টিআই সিপিআই সূচক প্রকাশের ঠিক পরেই বাংলাদেশে চলমান দুর্নীতি বিরোধী অভিযান আরো তীব্র করার প্রয়োজনীয়তা উঠেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, যেগুলোর কার্যক্রম সঠিকভাবে না হওয়ায় দেশের দুর্নীতির পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে উঠেছে।











