দুর্নীতির বৃত্ত থেকে বেরিয়ে, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক:

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন আজ বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয় সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে বললেন, “বিগত ১৭ বছরের দুর্নীতি ও অবহেলায় স্বাস্থ্য খাতে কোনো কাজ হয়নি। আমরা সেই দুর্নীতির বৃত্ত থেকে বেরিয়ে একটি দুর্নীতিমুক্ত স্বাস্থ্যসেবা খাত তথা দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই।”

সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “পাঁচটি বিভাগে আমরা ৫টি ২০০ শয্যাবিশিষ্ট শিশু হাসপাতাল নির্মাণ করছি, খুলনা, বরিশাল, রংপুর, রাজশাহী ও কুমিল্লায়। এই ৫টি হাসপাতালের ফার্নিচার ও যন্ত্রপাতির টেন্ডার ইতোমধ্যে করা হয়েছে। খুলনা, বরিশাল, রংপুর, রাজশাহী ও কুমিল্লা সদর এলাকায় ২০০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল আগামী ছয় মাসের মধ্যে আমরা উদ্বোধন করতে যাচ্ছি।‘এসব হাসপাতালের প্রতিটিতে এক হাজার ৪৭৫ জন করে জনবল লাগবে। প্রতিটি হাসপাতালে পূর্ণ জনবল বরাদ্দ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী গতকাল জনপ্রশাসনমন্ত্রীকে নির্দেশনা দিয়েছেন। আগামীকাল সেটি নিয়ে বৈঠক হবে। জনবল বরাদ্দ হলে আমরা অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে আর্থিক কোড নেব এবং ইনশাআল্লাহ আগামী কয়েক মাসের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আমরা এই ৫টি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল উদ্বোধন করব।”

 

‘প্রতিটি শিশু হাসপাতালে আইসিইউ থাকবে। সেন্ট্রালি এয়ার কন্ডিশন্ড ব্যবস্থা থাকবে। একটি করে আইসিইউ থাকবে এবং ভবিষ্যতে বেড বাড়ানোর জন্য পরিসরও রাখা হবে। আইসিইউর জন্য একটি বড় প্রাঙ্গণ রাখা হবে। আমরা আগামী চার মাসের মধ্যে, তবে যদি কোনো কারণে না পারি-কারণ যন্ত্রপাতি বাইরে থেকে আনতে হচ্ছে, এলসি হবে-তাহলে আগামী ছয় মাসের মধ্যে, অর্থাৎ ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে ইনশাআল্লাহ ৫টি হাসপাতাল উদ্বোধন করব’-উল্লেখ করেন তিনি।

 

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিক্ষার্থীরা অমানবিক পরিবেশে জীবন যাপন করে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “বিগত ১৭ বছরের দুর্নীতি ও অবহেলায় স্বাস্থ্য খাতে কোনো কাজ হয়নি। আমরা সেই দুর্নীতির বৃত্ত থেকে বেরিয়ে একটি দুর্নীতিমুক্ত স্বাস্থ্যসেবা খাত তথা দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই। আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম, আমাদের সেবক ও ডাক্তারদের আবাসন ব্যবস্থা উন্নত করার লক্ষ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রায় এক হাজার ১০০ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে নতুন আবাসিক ভবন নির্মাণ করতে যাচ্ছি।”

 

তিনি আরও জানান, “একটি বা দুটি ভবন যেটি প্রয়োজন হবে-তা নির্মাণ করা হবে। এ জন্য গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে প্রকল্প তৈরি করেছে। কয়েক দিনের মধ্যে টেন্ডার হবে এবং কার্যক্রম শুরু হবে। আগামী জুলাই মাসে প্রধানমন্ত্রী সেখানে যাবেন এবং সেখানে গিয়ে এটি ঘোষণা করবেন।”