নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশে প্রতিবছর প্রায় ৬১ লাখ মানুষ চিকিৎসা ব্যয়ের ভার সইতে না পেরে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাচ্ছে। সরকারি বরাদ্দ ও দাতা সংস্থার অর্থায়নে বিভিন্ন প্রকল্প নেওয়া হলেও স্বাস্থ্যখাতে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি। সরকারি হাসপাতালগুলোতে অব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা তীব্র, আর ঢাকার বাইরে এখনো গড়ে ওঠেনি পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবাব্যবস্থা। ফলে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের মতো জরুরি রোগে আক্রান্ত রোগীদের জেলা শহর থেকে ঢাকায় ছুটতে হয়।
অন্যদিকে বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে রয়েছে আস্থার সংকট ও প্রতারণার ফাঁদ। কোথাও টেস্ট বা চিকিৎসার দাম নির্ধারিত নয়, ফলে ইচ্ছেমতো গলাকাটা দাম আদায় করছে অনেক প্রতিষ্ঠান। হাসপাতালের মান ও ক্যাটাগরি অনুসারে মূল্য তালিকা না থাকায় অপারেশন, শয্যা ভাড়া ও অন্যান্য সেবার খরচও অনিয়ন্ত্রিত।
স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সূত্র বলছে, চিকিৎসা খরচে সবচেয়ে বড় অংশ যায় ওষুধের পেছনে। একজন ক্যানসার রোগীর গড়ে মাসে প্রায় ১৯ হাজার টাকা খরচ হয়, যা হৃদরোগে প্রায় ৮ হাজার টাকার বেশি। নিয়মিত রোগীদেরও মাসে সাড়ে ৩ হাজার টাকা গুনতে হয়। এই ব্যয়ের ৬৪ শতাংশ ওষুধে, ৬৮.৫০ শতাংশই রোগীকে নিজ পকেট থেকে দিতে হয়। ফলে প্রয়োজন থাকলেও চিকিৎসা নিতে পারেন না প্রায় ১৬.৪ শতাংশ মানুষ।
সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে দেশে এখন প্রায় ৭৫০টি হাসপাতাল ও ৫ হাজারের বেশি নিবন্ধিত ক্লিনিক রয়েছে, কিন্তু শয্যাসংখ্যা ও সেবার মান প্রয়োজনের তুলনায় এখনও অপর্যাপ্ত। বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দৌরাত্ম্য, চিকিৎসকদের প্রেসক্রিপশন বাণিজ্য এবং চিকিৎসাসেবার খরচ নিয়ন্ত্রণহীন থাকায় স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রতি আস্থাহীনতা বাড়ছে।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আবদুল হামিদ বলেন, “দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় আস্থার ঘাটতি রয়েছে। সরকারি হাসপাতালে কার্যকর সেবা নিশ্চিত না করলে এই সংকট কাটানো সম্ভব নয়। বেসরকারি হাসপাতালের ক্যাটাগরি অনুযায়ী মূল্য নির্ধারণ এবং তা কার্যকর করাও জরুরি।”
তিনি আরও বলেন, প্রেসক্রিপশন অডিট চালু করা এবং ডায়াগনস্টিক সেবার মান নিয়ন্ত্রণ ছাড়া এ অবস্থা থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়। পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিমা চালু ও সম্প্রসারণ ছাড়া বাড়তে থাকা চিকিৎসা খরচ জনগণের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ভয়াবহ হয়ে উঠবে।











