ধর্ম নিয়ে দুই স্ত্রীর পাল্টাপাল্টি দাবি, ১০ বছর ধরে হিমঘরে স্বামীর লাশ

অনলাইন ডেস্ক:

প্রায় ১০ বছর ধরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমঘরে সংরক্ষিত খোকা চৌধুরীর মরদেহ নিয়ে দুই স্ত্রীর মধ্যে পাল্টাপাল্টি দাবি সৃষ্টি হয়েছে। মৃতের ধর্ম নিয়ে এই বিরোধের কারণে মরদেহটির সৎকার বা দাফন নিয়ে আইনি লড়াই চলছে। হাইকোর্ট গত মঙ্গলবার এই বিষয়ে স্থিতাবস্থার আদেশ জারি করেছে, যার ফলে মরদেহটি বর্তমানে হিমঘরেই থাকবে।

মৃত এই ব্যক্তির নামের মধ্যে ‘রাজীব চৌধুরী’, ‘খোকন চৌধুরী’, ‘খোকন নন্দী’ এবং ‘রনজিত নন্দী’সহ একাধিক নাম পাওয়া গেছে। দ্বিতীয় স্ত্রী হাবিবা আকতার খানম দাবি করেছেন, তার স্বামী ১৯৮০ সালে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন এবং মুসলমান হিসেবে ২০১৪ সালে বারডেম হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। অন্যদিকে, প্রথম স্ত্রী মীরা নন্দী দাবি করেন, খোকা কখনও ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেননি।

এই দুই স্ত্রীর মধ্যে ধর্মীয় সৎকার নিয়ে মতবিরোধ তৈরি হয় এবং ঘটনা তাতে থামেনি, ঢাকা পুলিশের পক্ষ থেকে এই বিরোধ মেটানোর চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হয়। পরে আদালতে এটি বিচারাধীন হয়ে পড়ে। ২০১৪ সালের ২৩ অক্টোবর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে মৃতের মরদেহ সংরক্ষণের জন্য ঢাকা সহকারী জজ আদালত নির্দেশ দেন।

আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও মোহাম্মদ মিজানুল হক জানান, দ্বিতীয় স্ত্রী হাবিবা আকতার খানম দাবি করেন যে, ১৯৮০ সালে প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এফিডেভিট করে খোকা চৌধুরী নামের পরিবর্তে রাজীব চৌধুরী রাখেন। এরপর ১৯৮৪ সালে তাদের বিয়ে হয়। তবে, মীরা নন্দী দাবি করেন, তার স্বামী ধর্মান্তরিত হননি, যা তার মতে সম্পূর্ণ মিথ্যা।

এদিকে, হাইকোর্টের বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের একক বেঞ্চ অধস্তন আদালতের রায় বাতিল প্রশ্নে স্থিতাবস্থার আদেশ দিয়েছে, যার মাধ্যমে বিষয়টি এখন হাইকোর্টে বিচারাধীন।