নিজস্ব প্রতিবেদক:
নবম জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুমোদনের পর এখন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অপেক্ষা আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপনের। নতুন বেতন কাঠামো-সংক্রান্ত আদেশ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) অথবা বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জারি হতে পারে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, অর্থ বিভাগ বুধবার অথবা বৃহস্পতিবার এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করবে। প্রজ্ঞাপন জারি হলে নতুন মূল বেতন, বেতন স্কেল বাস্তবায়নের ধাপ এবং বিভিন্ন ভাতার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য স্পষ্ট হবে।
এর আগে সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে নবম জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুমোদন করা হয়। একই সঙ্গে নতুন বেতন স্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য ‘যৌথবাহিনী নির্দেশাবলি ২০২৬’ অনুমোদন করা হয়েছে।
অনুমোদিত নতুন বেতন স্কেল ও সংশ্লিষ্ট নির্দেশাবলি ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ এবং সশস্ত্রবাহিনী বেতন কমিটি-২০২৫-এর প্রতিবেদন পাওয়ার পর সুপারিশ প্রণয়নের জন্য সরকার একটি সচিব কমিটি গঠন করেছিল। সেই কমিটির দাখিল করা প্রতিবেদন মন্ত্রিসভার বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়।
বেতন কাঠামো চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা ও দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান এবং একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও যৌক্তিক বেতন কাঠামোর প্রয়োজনীয়তাও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
অনুমোদিত জাতীয় বেতন স্কেলে সরকারি কর্মচারীদের বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখা হয়েছে। তবে প্রতিটি গ্রেডের মূল বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন কাঠামোয় ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন প্রারম্ভিক মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা। অন্যদিকে, ১ম গ্রেডের সর্বোচ্চ নির্ধারিত বেতন করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।
নতুন বেতন কাঠামোয় সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতনের অনুপাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিদ্যমান ১:১.৯৪৫ অনুপাত কমিয়ে নতুন স্কেলে তা ১:১.৭৮ করা হয়েছে। এর ফলে ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন মূল বেতন আগের তুলনায় ১৪২ শতাংশ বাড়বে। আর ১ম গ্রেডের সর্বোচ্চ নির্ধারিত বেতন বাড়বে ১০০ শতাংশ।
নতুন পে-স্কেল পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে সরকারের বছরে অতিরিক্ত ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। এ অর্থের জোগান দিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) চলতি অর্থবছরের রাজস্ব আদায়ের বড় লক্ষ্যমাত্রা পূরণের উপায় খুঁজতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।











