নিজস্ব প্রতিবেদক:
মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাত ১২টার পর থেকে মাছ ধরা শুরু হয়েছে। এই সময়সীমা পার হতে না হতেই শুক্রবার সকালে জেলার বড় স্টেশন মাছঘাটে বিক্রির জন্য হাজির করা হয়েছে প্রায় এক হাজার টন ইলিশ, তবে এর বড় একটি অংশই নরম, পচা ও ছোট আকারের।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল ১০টায় চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছঘাটে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে প্রায় এক হাজার টন ইলিশ বিক্রির উদ্দেশ্যে নামানো হয়েছে, যার প্রায় ৭০ শতাংশই ছোট, নরম ও পচা।
মাছ বহনকারী বিভিন্ন ট্রাক ও ট্রলারে থাকা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ভোর থেকেই তারা ট্রাকে ও ফিশিং ট্রলারে করে ভোলা ও নোয়াখালীর হাতিয়া থেকে এসব ইলিশ চাঁদপুর মাছঘাটে নিয়ে আসেন। তবে এই মাছগুলো ঠিক কবে এবং কারা ধরেছিলেন, সে বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি উপস্থিত মাছ ব্যবসায়ী ও জেলেরা।
ব্যবসায়ী ও জেলেদের ভাষ্যমতে, মূলত চার থেকে পাঁচ দিন আগেই এসব ইলিশ ধরা হয়েছিল। ওই সময় মাছ ধরার ওপর সরকারি অভিযান চলমান থাকায় কোথাও এসব ইলিশ বিক্রি করার সুযোগ ছিল না। এ কারণে বাধ্য হয়ে তারা ট্রলারে কিংবা কোনো নিরাপদ স্থানে এসব মাছ মাটিচাপা দিয়ে সংরক্ষণ করেছিলেন। পরবর্তীতে নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ামাত্রই তারা সরাসরি এই মাছগুলো বিক্রির জন্য চাঁদপুর মাছঘাটে নিয়ে আসেন। বর্তমানে এই ইলিশ প্রতিমণ ১৫ হাজার থেকে ১৬ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যার প্রতি কেজির দাম পড়ছে ৩৭৫ থেকে ৪০০ টাকা।
নিষেধাজ্ঞার ঠিক পরদিন বাজারে ইলিশের এই উপস্থিতি প্রসঙ্গে চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শবে বরাত জানান, অভিযান শেষ হওয়ার পর আজ সকালে জেলেরা প্রায় এক হাজার টন ইলিশ বিক্রির জন্য চাঁদপুর মাছ ঘাটে নিয়ে এসেছেন। এর মধ্যে মাত্র ৩০ শতাংশ ইলিশ চাঁদপুরের স্থানীয় পদ্মা ও মেঘনা নদীর। আর বাকি ৭০ শতাংশই নোয়াখালীর হাতিয়া ও ভোলার। তিনি আরও উল্লেখ করেন, যেসব ইলিশ নরম হয়ে গেছে, সেগুলোর মূল কারণ হলো— অভিযানের সময় জেলেরা নদী ও সাগর থেকে মাছগুলো ধরে কোনো রকমে মজুত করে রেখেছিলেন, কারণ ওই নিষেধাজ্ঞার সময়ে বরফের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকে না।
এদিকে, দীর্ঘ ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে নদীতে নেমে প্রথম দিনেই বেশ ভালো পরিমাণে ইলিশ পেয়ে দারুণ খুশি জেলেরা।
রাত থেকে ভোর পর্যন্ত একটানা নদীতে জাল ফেলে প্রায় ১২ হাজার টাকার ইলিশ শিকার করেছেন লিটন তপাদার নামের এক জেলে। নিজের অনুভূতির কথা জানিয়ে তিনি বলেন, অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় এবার তারা একটু বেশি ইলিশ পেয়েছেন। যদি মাছ পাওয়ার এই ধারা অব্যাহত থাকে, তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সব ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব হবে।
আরেক জেলে আবুল কালাম জানান, তারা সাতজন মিলে মধ্যরাতে মেঘনা নদীতে ইলিশ ধরার উদ্দেশ্যে নেমেছিলেন। শেষ পর্যন্ত তাদের জালে যে ইলিশ ধরা পড়েছে, তা তারা মোট ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন।
অন্যদিকে, চাঁদপুর মাছ ঘাটের ইলিশ ব্যবসায়ী আকবর হোসেন জানান, নিষেধাজ্ঞার পর প্রথম দিনেই বাজারে বেশ ভালো পরিমাণে ইলিশ ধরা পড়েছে। বর্তমানে পদ্মা-মেঘনায় ধরা পড়া এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম ২৪০০ টাকা পর্যন্ত পড়ছে। এছাড়া ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি দুই হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি সাগরের ইলিশ প্রতি কেজি ১৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে এবং ছোট ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রামের ইলিশের কেজি পাওয়া যাচ্ছে ৬০০ টাকায়।










