নিষেধাজ্ঞা মেনে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার না করার আহ্বান তথ্য উপদেষ্টার

নিজস্ব প্রতিবেদক:

আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার ও বক্তব্য দেশের কিছু গণমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, আদালতের নির্দেশনা মেনে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিত এবং শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন।

 

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সচিবালয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। ডা. জাহেদ বলেন, সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিতে প্রচারিত শেখ হাসিনার একটি সাক্ষাৎকার দেশের কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশ ও প্রচার হয়েছে, যা আদালতের নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

 

তিনি বলেন, “শেখ হাসিনার বক্তব্য দেশের গণমাধ্যমে প্রচারের বিষয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তারপরও কিছু গণমাধ্যম সেটি প্রচার করছে। আমরা গণমাধ্যমকে অনুরোধ করব, তারা যেন আদালতের নির্দেশনা মেনে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার না করে।”

 

আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা পর্যন্ত দলটি কোনো নামেই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারবে না। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলেও জানান তিনি।

 

ব্রিফিংয়ে তিনি আরও জানান, খুব শিগগির তথ্য কমিশন গঠন করা হবে। পাশাপাশি গণমাধ্যম কমিশনও নতুন করে আলোচনা করে গঠন করা হবে।

 

পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ বলেন, সরকার দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই সিদ্ধান্ত নেবে। তাঁর ভাষায়, “তিস্তা মহাপরিকল্পনাসহ যেকোনো প্রকল্পে সরকার দেশের স্বার্থ বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেবে। এ নিয়ে অন্য কোনো দেশের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই।”

 

তিনি বলেন, চীনের সঙ্গে তিস্তা মহাপরিকল্পনায় কাজ করা হলে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হবে না। একই সঙ্গে চীন, মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্ভাব্য সড়ক বা করিডর সংযোগের বিষয়েও সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে।

 

দেশের বিভিন্ন স্থানে আরবি হরফে কালেমা লেখা পতাকা উত্তোলনের বিষয়েও সরকারের নজর রয়েছে বলে জানান তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “এটি কেন হচ্ছে এবং এর পেছনে কোনো পরিকল্পনা আছে কি না, সরকার তা খতিয়ে দেখছে। বিষয়টি নিয়ে যেন আন্তর্জাতিক পরিসরে ভুল বার্তা না যায়, সে বিষয়েও আমরা সচেতন।”

 

সীমান্ত পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারত থেকে ১১৫ জনকে পুশইন করার চেষ্টা প্রতিহত করেছে বিজিবি। এ জন্য বাহিনীকে সরকার ধন্যবাদ জানিয়েছে।

 

এছাড়া ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) প্রতিবেদনে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার অভিযোগগুলো তদন্ত করবে। তাঁর ভাষায়, “দুর্নীতির বিষয়ে বর্তমান সরকার সচেতন। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”