নিজস্ব প্রতিবেদক:
নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) এক শোকবার্তায় তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে নেপালের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রতি আন্তরিক সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।
নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৫ জনে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৮২৬ জন। নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি পর্যটক, নিরাপত্তাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছেন।
বুধবার (২৬ আগস্ট) নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় আকস্মিক পাহাড়ি ঢল থেকে এই ভয়াবহ বন্যার সূত্রপাত হয়। ভোতেকোশি নদীতে পানির প্রবল স্রোতে কয়েক মুহূর্তের মধ্যে বহুতল ভবন, যানবাহন ও ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ার দৃশ্যও সামনে এসেছে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নেপাল-চীন সীমান্তের কাছে লহেন্দে নদীর প্রবাহ একটি তুষারধসে সৃষ্ট ধ্বংসস্তূপে আটকে যায়। পরে পানি ও ধ্বংসাবশেষের বিশাল স্রোত ভোতেকোশি নদীতে নেমে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি করে। ওই এলাকায় বৃষ্টিপাত না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা আগাম সতর্কতা পাননি বলে জানানো হয়েছে।
বন্যায় অন্তত ৯টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকের ৯টি শাখা ধ্বংস হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে ১৯টি যান চলাচলযোগ্য সেতু এবং প্রায় ৪০ কিলোমিটার মহাসড়কও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি উদ্ধার কার্যক্রমও কঠিন হয়ে পড়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনো পাওয়া যায়নি।
তিব্বত-নেপাল সীমান্তের কাছে একটি সিসিটিভি ক্যামেরায় পানির ভয়াবহ স্রোতের দৃশ্য ধরা পড়েছে। দুর্যোগের পর উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য প্রতিবেশী ভারত ও চীন এগিয়ে এসেছে।
এদিকে, নেপালের পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সহায়তাও পৌঁছাতে শুরু করেছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দুই কর্মী ইতোমধ্যে নেপালে পৌঁছেছেন। তাদের সঙ্গে প্রায় ১০ হাজার মানুষের তিন মাসের প্রয়োজন মেটানোর মতো চিকিৎসা সরঞ্জাম, তাঁবু ও অন্যান্য লজিস্টিক সহায়তা রয়েছে।
আগামীকাল থেকে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) ও ইউনিসেফ নেপালে কর্মী এবং ত্রাণসামগ্রী পাঠাবে। সেভ দ্য চিলড্রেন নুওয়াকোট জেলায় কর্মী পাঠানোর কার্যক্রমও শুরু করেছে। নেপাল রেড ক্রস ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য প্রায় ২০০টি জরুরি আশ্রয় প্যাকেজ পাঠিয়েছে।
এর আগে বুধবার (২৬ আগস্ট) নেপালের বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে নেপালকে প্রয়োজনীয় যেকোনো ধরনের সহায়তা দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানানো হয়।
দুর্যোগকবলিত এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থাও পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে।











