নিজস্ব প্রতিবেদক:
ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ এবং ব্ল্যাকলিস্টিং বন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে রাজধানীর মিরপুর ও আশুলিয়ার বেশ কয়েকটি তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা বিক্ষোভ শুরু করেছেন। চলমান এই শ্রমিক অসন্তোষের মুখে আশুলিয়ার অন্তত ১৩টি কারখানা আজ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল থেকেই মিরপুর ও আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকার পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা রাস্তায় নেমে এই বিক্ষোভ শুরু করেন।
শিল্প পুলিশ ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শনিবার সকাল আটটার পর আশুলিয়ার কাঠগড়া বাজার, আমতলা, নয়াপাড়া ও আশপাশের এলাকার বিভিন্ন পোশাক কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। সকালে নাঈম নিটওয়্যারের শ্রমিকেরা প্রথমে কারখানার ভেতরে কর্মবিরতি শুরু করেন এবং পরে কারখানা থেকে বেরিয়ে সড়কে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা আশপাশের কয়েকটি কারখানা লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে কন্টিনেন্টাল গার্মেন্টস, এআর জিন্স ও সিডব্লিউএসহ কয়েকটি কারখানায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সংশ্লিষ্ট কারখানাগুলোতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।
শিল্প পুলিশ সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ছুটি ঘোষণা করা কারখানাগুলোর মধ্যে রয়েছে মিলিনিয়াম টেক্সটাইল লিমিটেড, হেসং কোরিয়া লিমিটেড, কন্টিনেন্টাল গার্মেন্টস লিমিটেড, টেক্সটাউন গ্রুপ, আফিয়া নিটওয়্যার লিমিটেড, নাঈম নিটওয়্যার লিমিটেড, জিহান গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, লেদারেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেড, এভারব্রাইট সোয়েটার লিমিটেড, গ্রিন লাইফ নীটেক্স লিমিটেড ও পিকার্ড বাংলাদেশ লিমিটেডসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান। সব মিলিয়ে অন্তত ১৩টি কারখানায় আজ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে শিল্প পুলিশ।
আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, শ্রমিক অসন্তোষের কারণে এ পর্যন্ত ১৩টি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে এবং পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। শ্রমিকদের ছোড়া ইটপাটকেলের আঘাতে পুলিশের একজন সদস্য আহত হয়েছেন এবং তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।
এদিকে সকাল পৌনে ১১টা থেকে মিরপুরের বিভিন্ন জায়গায় সড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকেরা, যার ফলে সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর দুপুর আড়াইটার দিকে মিরপুর ১০ গোলচত্বর থেকে গার্মেন্টস শ্রমিকেরা সরে যান এবং প্রায় চার ঘণ্টা পর ওই এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে বিকেল তিনটার দিকেও মিরপুর সাড়ে ১১ ও কালসি রোডে পোশাকশ্রমিকদের সড়ক অবরোধের কর্মসূচি অব্যাহত ছিল।
পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জালাল উদ্দিন জানান, সকাল পৌনে ১১টা থেকে মিরপুরের কয়েকটি জায়গায় শ্রমিকেরা সড়ক অবরোধ করলেও তাদের এই বিক্ষোভ সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ছিল। পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের কোনো ধরনের সংঘর্ষ বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর ট্রাফিক বিভাগ তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছে, পোশাকশ্রমিকদের এই বিক্ষোভের কারণে মিরপুর-১০, মিরপুর-১১, মিরপুর-১২ এবং প্রশিকা মোড় এলাকায় তীব্র যানজট ও যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে।
এর আগে একই দাবিতে গত বৃহস্পতিবারও মিরপুরের কয়েকটি এলাকায় সড়ক অবরোধ করেছিলেন পোশাকশ্রমিকেরা। তারও আগে একই দাবিতে উত্তরায় টানা কয়েক দিন সড়ক অবরোধ করা হয়েছিল এবং সে সময় পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছিল।











