অনলাইন ডেস্ক:
পঞ্চগড়ে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে জাবেদ উমর জয় (১৯) নামে ছাত্রদলের এক কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষ। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে জেলা শহরের সিনেমা হল মার্কেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, নিহত জয় পুরাতন ক্যাম্প এলাকার জহিরুল হকের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব শত্রুতার জেরে ছাত্রদলের প্রতিপক্ষের হামলায় তার মৃত্যু হয়েছে। গত বুধবার দুপুরে শহরের নতুনবস্তি এলাকার ছাত্রদল কর্মী আল আমিনের নেতৃত্বাধীন একটি গ্রুপের সঙ্গে জয়ের গ্রুপের সংঘর্ষ হয়। পরে রাতে জয় একা সিনেমা হল মার্কেট এলাকায় গেলে প্রতিপক্ষের ১০-১২ জন তার পথ রোধ করে বাগবিত-ায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে জয়কে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন আল আমিন। এ অবস্থায় স্থানীয়রা দ্রুত জয়কে উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।
এ হত্যাকান্ড ঘিরে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনার পরপরই শহরের ব্যবসায়ীরা রাতে দোকানপাট বন্ধ করে দেন। বিক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতাকর্মীরা হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে ঘোষণা দেন, আসামি গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত জয়ের দাফন করা হবে না। একই সঙ্গে রাতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে স্থানীয়রা। এদিকে পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শইমী ইমতিয়াজ জানান, পূর্ব শত্রুতার জেরে এ হত্যাকা- ঘটেছে। ঘটনায় জড়িত দুজনের নাম পাওয়া গেছে-আল আমিন ও পারভেজ। উভয়েই ছাত্রদলের কর্মী। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযান চলছে। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। শহরে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে হত্যকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে স্থানীয়রা। নিহতের বড় ভাই আশরাফ বলেন, রাতে মোটরসাকেল নিয়ে তিনজন জয়কে খুঁজছিল। আমিও তাকে না পেয়ে দোকানে চলে যাই। এরপর একটা ফোন পেয়ে জানতে পারি, জয়কে ছুরি মারা হয়েছে, তার ভুড়ি বের হয়েছে। শুনে দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে রংপুরে নেওয়ার পথে মারা যায় জয়। জানতে পেরেছি, আল আমিনসহ কয়েকজন তাকে মেরেছে। আমরা এ হত্যার বিচার চাই।











